শ্রমনীতির লঙ্ঘনের তথ্য পেয়েছে অ্যাপল



পণ্য সরবরাহকারীদের মধ্যে শ্রম এবং পরিবেশগত নীতির গুরুতর লঙ্ঘনের তথ্য পেয়েছে অ্যাপল। নিজস্ব নিরীক্ষায় এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গত বুধবার পণ্য সরবরাহকারীদের কার্যক্রম ঘিরে অভ্যন্তরীণ নীতির গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ডিভাইস ব্যবসার শুরু থেকে চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতাদের মাধ্যমে আইফোন ও অন্য ডিভাইস তৈরি করে আসছে অ্যাপল। জনপ্রিয় আইফোন ও অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইস তৈরির কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং অন্যান্য অসঙ্গতি খুঁজে বের করতে বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে অ্যাপল। এমন এক নিরীক্ষায় অ্যাপল পণ্য সরবরাহকারীদের মধ্যে নীতি লঙ্ঘনের তথ্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, ১২ বছর ধরে তারা বার্ষিক এ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পণ্য সরবরাহকারীদের কারখানায় কর্মচারীদের কর্মঘণ্টার তথ্য জালিয়াতি থেকে শুরু করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করানোর মতো তথ্য মিলেছে। ৩০টি দেশের প্রায় ৭৫৬টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির সামগ্রিক প্রবণতা অ্যাপলের কোড অব কন্ডাক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। নিরীক্ষায় প্রথমবারের মতো ১৯৭টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনা করছে অ্যাপল। বেশির ভাগ কারখানা চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতাদের মালিকানাধীন।
অ্যাপলের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় সবচেয়ে কম পারফরমার প্রতিষ্ঠানগুলো ১০০-এর মধ্যে ৫৯ পয়েন্ট পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ কম। ২০১৬ ও ২০১৪ সালের তুলনায় কমেছে যথাক্রমে ৩ ও ১৪ শতাংশ। উৎপাদন কারখানায় অ্যাপলের কোড অব কনডাক্ট মেনে চলার ক্ষেত্রে হাই-পারফরমার প্রতিষ্ঠানগুলো ১০০-এর মধ্যে ৯০ পয়েন্টের বেশি অর্জন করেছে, যা এক বছর আগের চেয়ে ৫৯ শতাংশ বেশি।
২০১৭ সালে অ্যাপল তাদের শ্রমনীতি লঙ্ঘনের গুরুতর ৪৪টি ঘটনা খুঁজে পেয়েছে, যা এক বছর আগের চেয়ে দ্বিগুণ। অ্যাপল পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানায় চাকরি পেতে অতিরিক্ত উেকাচ পরিশোধের তিনটি ঘটনা শনাক্তের কথা জানায়। ২০১৫ সালে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন অনুশীলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপল পণ্য সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানে ফিলিপাইন থেকে ৭০০-এর বেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট ১০ লাখ ডলার উেকাচ হিসেবে লেনদেনের তথ্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইফোন নির্মাতার দাবি, অভিযুক্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মীদের কাছ থেকে উেকাচ হিসেবে নেয়া অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
অ্যাপলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) জেফ উইলয়ামস বলেন, আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতাদের কারখানায় শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে প্রতি বছর আমরা নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছি। উৎপাদন কারখানায় শ্রমিকদের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করানো হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিকের কর্মঘণ্টার তথ্য ট্র্যাকিং শুরু করেছি।
তাইওয়ানভিত্তিক ফক্সকন টেকনোলজি গ্রুপ এশিয়ায় প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের পণ্য সরবরাহকারীদের অন্যতম। গত বছর নভেম্বরে ফক্সকনের চীনের ঝেংঝুর একটি আইফোন উৎপাদন কারখানায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস সে সময় কারখানাটিতে কর্মরত ছয় শিক্ষার্থীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তাদের ১১ ঘণ্টার মতো কাজ করতে হয়। কোনো কারখানায় ইন্টার্নকালে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে কাজ করে নেয়া চীনা আইনের পরিপন্থী।
জানা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বরে ঝেংঝু আরবান রেল ট্রানজিট স্কুলের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে স্থানীয় হন হাই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্টার্নের জন্য পাঠানো হয়। কারখানাটিতে আইফোন টেন তৈরি করা হয়। ওই কারখানায় কর্মরত শিক্ষার্থীদের বয়স ১৭-১৯ বছরের মধ্যে। তিন মাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ কারখানাটিতে তাদের পাঠিয়েছে।
বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা বেশি সময় ধরে কাজ করছে, আগে একবার এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে চীনের একটি কারখানা পরিদর্শনকালে আবারও বিষয়টি নজরে আসে।