যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি থাকতে জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এতে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছে দলটি। তবে সিনেটের ক্ষমতা কার হাতে যাবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেবে, তা নির্ধারিত হবে।
রিয়েল ক্লিয়ার পোলিংয়ের সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্য কয়েকটি জরিপেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে অসন্তোষ বিরোধী দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
তবে সিনেটের লড়াই এখনো বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কানসাস, মিশিগান, টেক্সাস, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও আলাস্কার আসনগুলো নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে অর্থনীতিকেই প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনছে দুই দল। ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্প। রোববার আইওয়া ও কানসাসে নির্বাচনী সমাবেশেও অংশ নেন তিনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে পাঁচ কোটির বেশি মার্কিন নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে ভোটার উপস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর ফলাফল বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আসতে শুরু করতে পারে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোতে চূড়ান্ত ফল পেতে সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন দখলের লড়াই নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন যাচাইয়েরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

