করোনাভাইরাসের মহামারিতে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশও এ প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে নিস্তার পায়নি। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও।
এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বরের আগে খোলা হবে না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর এতে বেশ বেকায়দায় পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কেননা, সেশনজটে পড়ে সেমিস্টার পিছিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের।
তাদের এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি বলে, এ সমস্যা সমাধান করতে অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে। এমনকি ভর্তির কার্যক্রমও অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে টিউশন ফি’র জন্য চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।
তাদের এই শর্ত মানছে না অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেশিরভাগ জায়গায় টিউশন ফি পরিশোধের কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া অনালাইনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হচ্ছে নোটিশ দিয়ে।
তা মেনে নিতে নারাজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলে সেখানে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
তাদের একটাই দাবি, পরিক্ষার নামে টিউশন ফি আদায় বন্ধ করতে হবে। যেইখানে প্রাই ২ মাস সকল অফিস আদালত বন্ধ সেইখানে সেমিস্টারের টাকা দাবি করে এবং বলেন অনলাইনে নাম মাত্র পরীক্ষা নিয়ে তা মেনে না নিয়ে প্রতিবাদ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী বসে থাকার কথা নয়।

অনেকে এই অঘোষিত লকডাউনে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। সেখানে অনলাইন নেটওয়ার্কের অসুবিধায় কি করে অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া হবে বা তারা কি করে সেই সমস্যা সমাধান করে পরীক্ষা দিবে, এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেক শিক্ষার্থী।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেছে। এবং এর সপক্ষে যুক্তিও দিয়েছে তারা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও সামাজিক মাধ্যমে তারা এ দাবি পেশ কর্রেছে।
দাবিগুলো হলো :
- মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে সেমিস্টার ফি আদায় করতে পারবে না , স্পষ্টভাবে এই ঘোষণা দিতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেমিস্টার ফি কিস্তিতে আদায় করতে হবে এবং যাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই তাদের সেমিস্টার ফি মওকুফ করতে হবে।
- অনলাইনে ক্লাশ বা পরীক্ষা চাইনা, তবে দিতে হলে অনলাইনে ক্লাশ ও পরীক্ষা দেয়ায় জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিশ্চিত করা।
- অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সীমাবদ্ধতা বিস্তর।তাই নিম্নে উল্লেখিত সীমাবদ্ধতা সমূহ ১০০% দূর না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।
এ দাবিগুলোর বিপক্ষে বেশকিছু যুক্তি দিয়েছেন তারা। যুক্তিগুলো হলো :
- ক্লাস পরীক্ষায় যুক্ত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত ডিভাইসের অভাব।
- দূর্বল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
- অনলাইনে ল্যাব ক্লাসে গুনগত মানের অভাব।
- অনলাইনে ক্লাস করানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব।
- ইন্টারনেট এর খরচ বহন করার সীমাবদ্ধতা।

