টেস্ট কিন্তু হয়ে গেল টি টোয়েন্টি। অন্তত বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে সেটাই মনে হতে পারে। ১৮.৪ ওভারে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনের খেলাই তখনো ২১ মিনিট বাকি ছিল!
এভাবে ভেঙে পড়বে বাংলাদেশ, এটা কি ওয়েস্ট ইন্ডিজও ভাবতে পেরেছিল? দুঃস্বপ্ন বললেও বুঝি বলা হয় কম।
অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম সকালে টেস্টে নিজেদের আগের সর্বনিম্ন রানকে পেছনে ফেলেছে অনেকটা ব্যবধানে।
বাংলাদেশের ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল কেবল তিনটি। দুটি মেরেছেন লিটন দাস, একটি দশে নামা রুবেল হোসেন।
টেস্টের আগে যাকে নিয়ে ছিল মূল শঙ্কা, সেই শ্যানন গ্যাব্রিয়েল উইকেটই পেলেন না। বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিলেন অন্যরা। ধ্বংসজ্ঞের শুরু করেছিলেন কেমার রোচ। ৫ ওভারের এক স্পেলে ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। চার পেসার মধ্যে সবচেয়ে অনভিজ্ঞ যিনি, সেই মিগেল কামিন্স নিয়েছেন তিনটি।
এক ওভারে তিন উইকেট নেওয়ার পর পায়ের পেশিতে টান লাগায় মাঠের বাইরে চলে যান রোচ। নাহলে বাংলাদেশের স্কোর কত থাকত, কে জানে!
টেস্ট ক্রিকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। ৫০-এর নিচে এবারই প্রথম অলআউট হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আগের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৬২, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৭ কলম্বো টেস্টে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই এটি বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮তে অলআউট হয়েছিল তারা। আর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৭০, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেকোনো দলের এটি সর্বনিম্ন স্কোর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০ রানের কমে আউট হওয়ার মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ড আউট হয়েছিল ৪৬ রানে।
৪৬ রানের সেই স্কোর ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেও কোনো দলের সর্বনিম্ন। সেই রেকর্ডটিও ভেঙে দিল বাংলাদেশ।
টেস্ট ইতিহাসে ৪৩ বা এর কমে অলআউট হওয়ার ১০টি উদাহরণ আছে। একই স্কোরে অলআউট হওয়ার কিছু নজির আছে একাধিক।
তবে ২০০০ কিংবা এর পরে এত কম রানে আর কেউ অলআউট হয়নি। সবচেয়ে কাছাকাছি রেকর্ডটিও ১৯৭৬ সালের। ৪২ রানে লর্ডসে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ভারত। গত ৪২ বছরে এটিই টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন স্কোর!
