দেশে চলমান প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণে স্থবির হয়ে পড়েছে সবকিছু। বাদ যায়নি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। এবার এমনই এক অবস্থার সম্মুখীন দেশের প্রায় ২৪ হাজার সমবায়ী প্রতিষ্ঠান।
করোনা আতঙ্কের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে চলমান দীর্ঘ ছুটির কবলে পড়ে এসব সমবায় প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ঋণ আদায় ও সঞ্চয় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেইসাথে সমবায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত প্রায় ৯ লক্ষাধিক কর্মকমর্তা-কর্মচারীর বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এমতাবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে সমবায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিও ঋণের মতো প্রণোদনার অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাবেক সাবেক সচিব ও সমবায় অধিদপ্তরের সাবেক নিবন্ধক মো. হুমায়ুন খালিদ বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও মহাসংকটে পড়তে যাচ্ছি। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট শুরু হয়েছে। সামনে খাদ্য সংকটে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় লক্ষাধিক সমবায়ী প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে হবে। মিল্কভিটার মতো বিভিন্ন সমবায়ী প্রতিষ্ঠান যারা সরাসরি আয় কাজের সঙ্গে জড়িত, সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে এসব কাজে বাধা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেইসাথে এনজিওগুলোর মতো সরাসরি ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৪ হাজার সমবায়ী প্রতিষ্ঠানকে সরকারের প্রণোদনার অর্থের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
জানা গেছে, সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত দেশের সমবায়গুলো তাদের সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও আমানত নিয়ে আবার সমিতির সদস্যদের মধ্যেই গাভি পালন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঋণ দান করে থাকে। কিন্তু সারাদেশে করোনার কারণে ছুটি ঘোষণা হওয়ায় ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কাল্ব’র সাবেক সেক্রেটারি ও দি সেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন অব খ্রিস্টান কো-অপারেটিভস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নির্মল রোজারিও বলেন, এনজিওগুলোর মতো তাদেরও ঋণের ব্যবস্থা করলে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল থাকবে। সদস্যরা ঋণের অর্থ ফেরত দিতে পারবেন।

ক্রেডিট ইউনিয়ন সম্প্রীতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় দেশের সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর সদস্যদের জমানো অর্থ থেকেই তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ঋণ বিতরণ করা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটির মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।
সমবায় অধিদপ্তরের সর্বশেষ এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সরাসরি ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সমবায় সমিতির সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার। এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ।
সমিতিগুলোর সঞ্চয় আমানত রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকা এবং ঋণ আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। আর সংরক্ষিত তহবিল রয়েছে প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা।
এমতাবস্থায় করোনা সঙ্কটে দেশে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখনই যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে অর্থনৈতিক অবকাঠামো অনেকটাই দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

