‘কষ্ট নিয়েই চলে গেলেন বাবা’


teli samad @paperslife

প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে হৃদ্‌রোগসহ নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন টেলি সামাদ।

এই অবস্থায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষনিক তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন অবস্থা আরও খারাপ হলে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বেলা দেড়টায় মারা যান তিনি। তার দুই মেয়ে ঢাকায় ও ছেলে সুমন সামাদ যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

‘মানুষ বাবাদের ভয় পায়। সন্তানদের কাছে বাবারা একটু রাশভারী হয়, রাগী ব্যক্তিত্বের হয়। কিন্তু আমাদের বাবা ছিলেন মজার মানুষ। আমরা সব ভাইবোনেরা পথ চেয়ে থাকতাম বাবা কখন বাসায় ফিরবে।’

`কিন্তু আর কোনোদিন বাবার জন্য পথ চেয়ে থাকতে হবে না। ভাবলেই বুক ফেটে যাচ্ছে বাবা আর কোনোদিন বাসায় ফিরবে না। তাকে নিয়ে আর কোনোদিন মজা করবো না’- এফডিসিতে অশ্রুসিক্ত চোকে এভাবেই বাবাকে নিয়ে বলছিলেন টেলি সামাদের কন্যা সোহেলি সামাদ কাকলী।

প্রায়ই ‘খাবার টেবিলে অথবা যেকোনো আড্ডায় বাবা বলতেন, আমি মনে হয় আর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাব না। সারাজীবনে এতগুলো ছবিতে অভিনয় করলাম, একটা ছবিও কি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার মতো না, মা! কী করলাম তাহলে! ভেবে কষ্ট পাই রে, মা।’ কথা গুলো বলছিলেন, টেলি সামাদের ছোট মেয়ে সায়মা সামাদ।

বাবাকে নিয়ে বলতে গিয়ে বাবার এসব কথা মনে করে বারবার কেঁদে উঠছিলেন তিনি।

টেলি সামাদ প্রায় ছয় শর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তার অধরাই রয়ে গেল। এ নিয়ে টেলি সামাদ অনেকবার নিজেও আক্ষেপ করেছিলেন।

মৃত্যুর আগে একাধিকবার তিনি বলেছিলেন, ‘চার দশক ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। এতগুলো বছরে আমি পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। প্রত্যেকটি ছবিতে আমার অভিনয় প্রশংসিত ছিল। কিন্তু শেষ জীবনে এসে আমার একটাই আক্ষেপ, আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম না।

`আমার পুরো চলচ্চিত্রজীবন আমি শুধু অভিনয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। ছবি প্রযোজনা করেছি, ছবিতে গানও গেয়েছি। এসবের প্রাপ্তি হিসেবে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। সেসব পুরস্কারে আমার ঘর ভর্তি হয়ে আছে। শুধু নেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার!’

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ। সত্তরের দশক থেকে নিয়মিত কাজ করেছেন।

২০১৬ সালে চলচ্চিত্র পুরস্কারের একটি অনুষ্ঠানে নিজের আক্ষেপের কথা জানিয়ে টেলি সামাদ বলেছিলেন, ‘এটা যেহেতু জাতীয় চলচ্চিত্র পর্যায়ের পুরস্কার, সেহেতু আমার মনে হয় এটা অর্জন করতে হলে জাতে ওঠা লাগে। কবে যে জাতে উঠব, আর কবে এই পুরস্কারটা পাব, তা আল্লাহ মালুম!’

সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হওয়া টেলি সামাদ ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। তারপর  সিনেমায় প্রবেশের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক মোস্তফা মামুন তার ডাকনাম দিয়েছিলেন টেলি সামাদ। তারপর থেকে তিনি এ নামেই পরিচিত ছিলেন।