গাজীপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন



জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তবে আলোচনার মধ্যেও নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা।

শ্রমিকদের এই অসন্তোষ নতুন নয়। এর আগেও গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। পরদিন রোববার (১ নভেম্বর) মিরপুরের পাশাপাশি সাভারের আশুলিয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধারাবাহিক এসব কর্মসূচিতে পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকে ঘিরে ভিন্ন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমেই এ বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা অবস্থান অব্যাহত রাখেন। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলন নতুন করে চাপ তৈরি করেছে পোশাকশিল্প ও প্রশাসনের ওপর। একদিকে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সমাধানের প্রশ্ন, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ—দুই দিক সামাল দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় বিষয়।