জীববৈচিত্ৰ্য (biodiversity) জীবিত প্ৰজাতির বৈচিত্ৰ্যতা এবং তাদের বাস করা অতি শুষ্ক মরুভূমি থেকে ক্ৰান্ত্ৰীয় বৃষ্টিপ্রবণ অরণ্য পর্যন্ত, বরফে আবৃত কঠিন পৰ্বত থেকে সাগরের গভীরে বিস্তৃত হয়ে থাকা বিভিন্ন প্ৰজাতির জীবজগতের রং, আকৃতি, আকার ইত্যাদির বিভিন্নতা থাকা সত্বেও প্ৰাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট না করে জীবন ধারণ করে আসছে৷ আমেরিকার জীব বিজ্ঞানী ইএনরসে এবং তার সহযোগীদের সূত্ৰ অনুযায়ী জৈব বৈচিত্ৰ্য হল জল, স্থল সকল জায়গায় সকল পরিবেশে থাকা সকল ধরনের জীব এবং উদ্ভিদের বিচিত্ৰতা৷ পৃথিবীর ১০ বিলিয়ন ভাগের একভাগ অংশতেই ৫০ মিলিয়ন প্ৰজাতির বিভিন্ন জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের বসবাস৷
জিনগত বৈচিত্ৰ্য
জিন জৈব বৈচিত্ৰ্যের মূল উৎস৷ যা জৈবিক এককে পিতৃ-মাতৃ গুণাগুণ একটা জনু থেকে অন্য একটা জনুতে বয়ে নিয়ে যায় তাই জিন ৷ বংশগতির বাহক জিনের সংমিশ্ৰণের ফলে একেক প্ৰজাতির জীবের মধ্যে যে জৈবিক বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাক জিনগত বৈচিত্ৰ বলে৷
প্ৰজাতি বৈচিত্ৰ্য
এই ধরনের বিভিন্নতা একটা প্ৰজাতির অথবা বিভিন্ন প্ৰজাতির অন্তৰ্গত সদস্য সমূহের মধ্যে দেখা যায়৷ বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড উইলসনের (১৯৯২) মতে বিশ্বে ১০ মিলিয়নের থেকে ৫০ মিলিয়ন জীবিত প্ৰজাতি আছে৷ তবে কেবল ১.৫ মিলিয়ন জীবিত প্ৰজাতির এবং ৩,০০,০০০ জীবাষ্ম প্ৰজাতি আবিষ্কার করে নামকরণ করা হয়েছে৷ ইতোমধ্যে বহু প্ৰজাতির প্ৰকৃতির সাথে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারায় বিলুপ্তি ঘটেছে৷ প্ৰজাতি বৈচিত্ৰতা নিৰ্ণয় করার জন্য দুটা সূচক ব্যবহার করা হয় – শেন’ন উইনার সূচক এবং সিম্পসন সূচক।
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্ৰ্য
পরিবেশের ওপর নিৰ্ভর করে বিভিন্ন পরিবেশ তন্ত্ৰে বাস করা জৈব সম্প্ৰদায় সমূহের মধ্যে যে জৈবিক বৈচিত্ৰ্যের সৃষ্টি হয় তাক পরিবেশিয় বৈচিত্ৰ্য বলে৷ পরিবেশের বিভিন্ন ভৌতিক উপাদান, যেমন – আদ্ৰতা, উষ্ণতা, দ্ৰাঘিমাংশ, অক্ষাংশ ইত্যাদি জৈবিক বৈচিত্ৰ্যের সৃষ্টি করতে পারে৷ হুইটেকার ১৯৭২ সালে বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্যের নির্ধারণের তিনটি সূচক প্রস্তাব করেছেন। এই সূচকগুলি হল- ১) আলফা বৈচিত্র্য; ২) বিটা বৈচিত্র্য; ৩)গামা বৈচিত্র্য

