তাসকিনের শেষের শুরু এখান থেকেই



‘স্বপ্ন তোমার পিছু ছাড়ব না/আমি অবিচল ছুটে যাব হারব না…’ – গতকাল নিজের ফেসবুকে আইডিতে পোস্ট দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিন হারেননি। তাসকিন ছুটে চলেছে। যেই স্বপ্ন ভাঙার তীব্র যন্ত্রনায় প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছেন, সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে ছুটছেন।

আর তাইতো প্রিমিয়ার লিগে নিজের ফিরে আসার গল্প লিখলেন অন্যভাবে। আজ বিকেএসপিতে বল হাতে প্রাইম দোলেশ্বরকে ধসিয়ে দিয়েছেন।

৯ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে যে ৪ উইকেট নিয়েছেন। পরিস্থিতি বিচারে প্রতিটি উইকেটই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

আউট করেছেন প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে এ মৌসুমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা সাইফ হাসান (৩৭), আজকের ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭২ রান করা সৈকত আলী, দোলেশ্বরের অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব (২) ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তাইবুর রহমানকে (২৭)।

ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। আনফিট অবস্থায় বিশ্বকাপে নেওয়া যায় না, তাই দলে রাখা হয়নি। নির্বাচকদের এমন যুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রমাণ করলেন নিজেকে। যেন বলতে চেয়েছেন, আমি প্রস্তুত ছিলাম।

বিপিএলে পাওয়া চোট থেকে সেরে উঠে রানিং-বোলিং শুরু করেছিলেন। এমনকি ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে দল ঘোষণার আগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে একটা ম্যাচও খেলেছেন। তবুও নির্বাচকদের চোখে সেটি যথেষ্ট মনে হয়নি।

কাল রূপগঞ্জের অনুশীলন শেষে তাসকিন বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়াটা আমার জন্য অবশ্যই বিরাট ধাক্কা। তবে যেটা হয়ে গেছে তো গেছে। এখন প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পেলে ফাটিয়ে বোলিং করব। এখন আমার হারানোর কিছু নেই।’

সত্যি সত্যিই তাসকিন ফাটিয়ে দিয়েছেন। সুযোগ পেলে হয়ত অন্যকিছু করতে পারতেন, আজ এমন আভাসই ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ২৪ বছর বয়সী এই পেসার।