শিক্ষক সংকটে সমাজকর্ম বিভাগে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম সেইসাথে আইন বিভাগেও একই অবস্থা বিরাজমান যেখানে শুধু দুজন শিক্ষক নিয়ে চলছে পাঠদান। এমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশের অন্যতম নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এছাড়াও, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি বিভাগেই শিক্ষক সংকট প্রকট বলেও জানা গেছে। বর্তমানে ২৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউট চালু আছে। এর মধ্যে ১৪টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটই খোলা হয়েছে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক অহিদুজ্জামানের মেয়াদে সেসময় শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগ উঠলে গত বছর ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সেসময় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ আলী রেজা স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী পদে যাবতীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন বলেন, স্থগিতাদেশ তুলে নেয়ার জন্য সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে অবহিত করা হয়েছে।
দ্রুত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করলে বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা আরো কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান বাদশাহ মিয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রাণিবিজ্ঞান ও শিক্ষা প্রশাসন বিভাগে চারজন করে শিক্ষক রয়েছেন। ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সে শিক্ষক আছেন পাঁচজন। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, শিক্ষা, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, সমাজবিজ্ঞান ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র ছয়জন করে শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে শিক্ষক ছুটিতে আছেন। এর মধ্যে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস ও বাংলাদেশ অ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার বিভাগে একজন করে এবং স্ট্যাটিস্টিকস বিভাগে দুজন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু নতুন শিক্ষক নিয়োগ নয়; অস্থায়ী শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণও বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক এ প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা স্থায়ী হতে পারছেন না। আমরা আশা করি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

