দেড় মাস পর দেশেও বাড়ল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম


দেড় মাস পর দেশেও বাড়ল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তার পকেটে। অভ্যন্তরীণ বাজারে দেড় মাস ধরে চলা সরবরাহ সংকট কাটাতে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একযোগে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।


দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ছিল। এতদিন সরকার ভর্তুকি দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সেই চাপ আর সামলানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের দাম দফায় দফায় বাড়লেও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যবহৃত সব ধরনের জ্বালানির জন্য গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের পার্থক্য কমিয়ে চোরাচালান রোধ করতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রতিদিন যে পরিমাণ লোকসান দিচ্ছিল, তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভর্তুকির চাপ কমাতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।

গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের যে হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, এই মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়বে এমন আশায় অনেক পাম্প মালিক তেল মজুদ করে রাখছিলেন, যার ফলে সাধারণ মানুষকে পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।

জনজীবনে প্রভাব ও আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতে। বাসের ভাড়া এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও একবার লাগামহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি প্রধান এই দেশে সেচ মৌসুমে ডিজেলের এই বাড়তি দাম কৃষকদের উৎপাদন খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি খাতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো এখন আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।