দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট


gs pharma #paperslife

দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই অবচেতন মনে দুটি প্রশ্ন জাগে;

পৃথিবীজুড়ে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব সরকারি ও বেসরকারিভাবে স্বীকৃত হলেও আমাদের দেশে কি সেই ভাবে স্বীকৃত?

যদি স্বীকৃত হয়ে থাকে তাহলে সরকারি-বেসরকারিভাবে চিকিৎসাক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ কত শতাংশ?

যেখানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা যেমন অসামান্য ঠিক তেমনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের ক্ষেত্রেও গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা অনন্য।

বাংলাদেশের প্রায় ৯৭.৫ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ১৭০ টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, এই অবদান গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১৩,৫০০ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট রয়েছেন, এর মধ্যে অনেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা বিভিন্নভাবে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পেশাগতভাবে কেউ ওষুধ গবেষণায়, কেউ উৎপাদনে, কেউ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিপণনে কাজ করে যাচ্ছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হসপিটাল গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের অবদানের একটা পরিসংখ্যানের দিকে খেয়াল করলে আমরা দেখতে পারি উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের ওষুধ উৎপাদনে যেমন জরুরি ঠিক তেমনি সঠিকভাবে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ সংরক্ষণ, ওষুধের সঠিক ব্যবহারে হসপিটাল ফার্মেসি এবং ফার্মাসিস্ট-এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত হিসেবেই আমরা জানি।

ডাক্তার ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি কি কল্পনা করা যায়? উত্তর না, কল্পনা করা যায় না। আর ডাক্তাররা চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে ঔষধ ব্যবহার করে থাকেন সেই ঔষধের আবিষ্কার থেকে শুরু করে- উৎপাদন, নামকরণ, ব্যবহারবিধি, এমনকি যেকোন ওষুধের সার্বিক বিষয়ে ডাক্তারদেরকে সরাসরি ধারণা দিয়ে থাকেন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টগণ।

তাহলে এটা বলাই যায় যে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঔষধ উৎপাদনে যেমন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট অত্যাবশ্যকীয় একইভাবে ডাক্তারদের সাথে সম্মিলিত কাজ করার ক্ষেত্রেও গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট অত্যাবশ্যকীয়।

প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার নিয়োগ যেমন জরুরি তেমনি গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ জরুরি যা সারা পৃথিবীতেই প্রচলিত। কিন্তু বাংলাদেশ কেন নেই ? এর উত্তর স্বাধীনতা-পরবর্তী থেকে আজ পর্যন্ত অজানা রয়ে গেছে।

পৃথিবীতে প্রত্যেকটি ভালো কাজের মূল্যায়ন করতে হয় স্বীকৃতির মাধ্যমে এবং এভাবেই ভালো কাজ করা মানুষগুলো উৎসাহিত হয় আর মেধার মূল্যায়নের মাধ্যমেই সুপ্ত মেধা বিকশিত হতে থাকে।

সারা পৃথিবীতে আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে যেভাবে আমাদের সুনাম অর্জন করেছি ঠিক তেমনি ভাবে বাংলাদেশেও আমাদের দেশের গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টগণ তাদের সুনাম অর্জন করবে বলেই আমার বিশ্বাস, যা ইতিমধ্যে প্রমাণিতও।

আজকের মহামারি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেমন তাদের দায়িত্ব পালন করছেন ঠিক তেমনি গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টগণ বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি, বেসরকারি মডেল ফার্মেসি, হাসপাতালে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

তবে হ্যাঁ, এখন সময় এসেছে সঠিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য যে সকল গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টগণ বিভিন্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়ে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সল্প মেয়াদি ট্রেনিং এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজ করার জন্য সরকারি হাসপাতালে জরুরি ভাবে নিয়োগ প্রদান করা।

পাশাপাশি বেসরকারিভাবে যে সকল গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টগণ কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সঠিক স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন করা ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এই কাজটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। আগামী দিনে এই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা থাকবে।

লেখক : মাহমুদুল হাসান গাজ্জালী

প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও

জিএস ফার্মাসিউটিক্যাল লি.