পাগলাটা পাগলাই রয়ে গেছে



সাকিব আহমেদ
বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেবদূতের মত আবির্ভাব হয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার। তিনি এসেছিলেন আলোর মশাল হাতে নিয়ে। যেই আলোয় আলোকিত হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট, পথ দেখেছে এগিয়ে যাওয়ার। সামনে আরো সামনে। বহুদূরের পথে ছুটে যাওয়ার অনুপ্রেরণা এই মাশরাফিতেই পাওয়া।
এই মাশরাফিতে অনুপ্রেরণা খুঁজি আমিও। দুই পায়ে জোর নেই, তারপরও ছুটে যাওয়া। ছুরি কাঁচির নিচে বারবার সঁপে দেওয়ার পরও ওই পা কথা শুনে। এগিয়ে যাওয়ার গল্প লিখে। যে গল্পে আছে বেদনা, নতুনের আত্মবিশ্বাস। আছে হার না মানা এক যোদ্ধার ফরিয়াদ, লড়াকু মনোভাব।
এমন কাজ তো একজন পাগলারই সাজে। হ্যা পাগলা! বাংলার ক্রিকেটে তাকে পাগলা হিসেবে পরিচত করেন ডেভ হোয়াটমোর, তর্ক সাপেক্ষে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কোচ। তার অধীনেই জিততে পারি, এই মানসিকতার জন্ম। তার অধীনেই পাগলাটা আরো শানিত হয়ে ক্ষুরধার মগজে শ্রেষ্ঠ। এই শ্রেষ্ঠত্ব বয়ে নিয়ে যেতে হয়, আত্মবিশ্বাসগুলো ছড়িয়ে দিতে হয় সবার মাঝে। তা শুধু তিনিই পারেন, কেবল মাশরাফিই পারেন।
এই পাগলাটা আজো পাগলামি করে। আজ বল হাতে গতি তুলে বুকে কাঁপুনি তোলে ব্যাটসম্যানদের। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেরা পেস বোলার। তার ধারে কাছে এখন পর্যন্ত তৈরি হতে পারেনি কেউই। আজো সেরার মত লড়ার করে জানান দেন, তিনি আছেন। পাগলামীটা এখনো বিসর্জন দেননি। যতদিন দৌড়ানোর শক্তি আছে, পা চলবে। চলবে পাগলামিগুলোও। এই জন্যই যেন বেঁচে থাকা, এর জন্যই স্বপ্ন দেখা।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এর আগে এক আসরে সর্বোচ্চ ৩৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন আবু হায়দার রনি। তাকে পিছনে ফেলেছেন। ৩৮ জন ব্যাটসম্যানকে পথ দেখিয়েছেন প্যাভিলিয়নের। তার হাত থেকে ছুটে আসা এক একটি বল যেন আগুনের গোলা। হ্যাট্রিক করেছেন, নিয়েছেন পর পর চার উইকেট। বাংলাদেশি কোনো খেলোয়াড়ের যা প্রথম কীর্তি, বিশ্বে সপ্তম। কে পারে? মাশরাফিরা পারেন। এখনো পারেন। যে সময় ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার সময় হয়, সে সময় মাশরাফিরা রেকর্ডবুকে নিজেদের নাম লিখিয়ে যান।
মাঝে মাঝে পা দুটো কথা শুনে না। তারপরও ছুটে যেতে হয়। ছুটে চলার জন্যই যে তার আবির্ভাব। এই ৩৪ বছর বয়সেই এসেও প্রতিপক্ষের শিবিরে ধ্বংসযজ্ঞে মাতেন। একজন মাশরাফিই তা পারেন, একজন পাগলাই তা পারেন।