বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৮১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ টাকা। বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রতি মেট্রিক টন গম ৩০২.৭৫ মার্কিন ডলার হারে আমদানি করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চাই। রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের গমের দাম অন্য উৎসের তুলনায় কিছুটা বেশি কিনা, এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “দাম সামান্য বেশি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গমের প্রোটিনের মান তুলনামূলকভাবে ভালো। এছাড়া, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এই আমদানি আমাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।” তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতিবিদ ড. ফরিদুল হাসান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কমাবে। তবে দামের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

