বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত চীন



মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, তবে তাতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে চীন। এক সরকারি পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের শক্তিশালী বাণিজ্য উদ্বৃত্তের তথ্য প্রকাশের পর গতকাল এ সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটি।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও যত দ্রুত সম্ভব ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকালই যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি চূড়ান্ত করার কথা। মার্কিন প্রশাসনের এ জোর উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
ওয়াং ই বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধকে বেছে নেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে। শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কেবল অন্যদের এবং আপনার নিজেকেই আঘাত দেবে। কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক পার্লামেন্টারি অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের ওয়াং ই বলেন, চীন অবশ্যই যথোপযুক্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এর আগে বুধবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের নেতৃত্বাধীন ১৮ সদস্যের একটি দল ট্রাম্পকে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাদ দেয়ার আহ্বান জানান। দলটির প্রতিনিধিরা বলেন, শুল্ক আরোপ করা হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করে, তা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটির মোট রফতানির ছোট একটি অংশ। কিন্তু ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে যে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধ ঘনিয়ে উঠছে, এসব শুল্ক তার প্রথম স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।
আসন্ন সপ্তাহগুলোয় চীনের মেধাসম্পদ অনুশীলন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা চীনের ওপর আরো একটি আঘাত হবে। এর মধ্য দিয়ে বিস্তৃত পরিধিতে চীনা আমদানির ওপর আরো শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ে ওয়াং ইর মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে টুইটারে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মেধাসম্পদ চুরির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বহু বছর ধরে এমনটা হয়ে এলেও এখন আমরা আর তা হতে দিতে পারি না। এছাড়া পৃথক এক বার্তায় ট্রাম্প চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বার্তায় ট্রাম্প চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহদাকার বাণিজ্য ঘাটতি থেকে চলতি বছর ১০০ কোটি ডলার হ্রাসের পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।