বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির উৎপাদন কমেছিল। মার্চে এসে ফের প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন খাত। এ ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এ সময় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের সম্মিলিত পরিমাণ ১৪ কোটি ৮০ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত চাহিদা বৃদ্ধির জের ধরে ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদনেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে এ্যাসোসিয়েশন ৬৪টি দেশে সব মিলিয়ে ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। গত মার্চে বিশ্বব্যাপী ১৪ কোটি ৮০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। সেই হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন লাখ টন।
ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় চীনের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইস্পাতের প্রায় অর্ধেকই এককভাবে জোগান দেয় চীন। ডব্লিউএসএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৬৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বছরের বাকি মাসগুলোতেও চীনের ইস্পাত উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে গত মার্চে প্রথমবারের মতো ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় জাপানকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। এপ্রিলে ভারতে মোট ৮৭ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতে বাড়লেও এ সময় জাপানের ইস্পাত উৎপাদন খাতে বজায় ছিল মন্দাভাব। গত এপ্রিলে জাপানের কারখানাগুলোয় ৮৭ লাখ টনের সামান্য কম অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে এপ্রিলেও ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটিতে মোট ৬৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ লাখ টনে। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেখা গেছে ব্রাজিল ও ইউক্রেনের ইস্পাত খাতেও। এ সময় ব্রাজিল ও ইউক্রেনে যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ১৭ লাখ টন করে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক বছরের ব্যবধানে ব্রাজিলে পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, আর ইউক্রেনে ৬ শতাংশ। তবে বছরান্তে ৩ দশমিক ১ শতাংশ মন্দাভাব দেখা গেছে তুরস্কের ইস্পাত উৎপাদন খাতে। গত এপ্রিলে দেশটির কারখানাগুলোয় মোট ৩০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য দিয়েছে ডব্লিউএসএ।
