মাইক্রোসফটকে প্রথমবারের মতো পেছনে ফেলেছে অ্যামাজন। গত বুধবার দিন শেষে ই-কমার্স জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৭০ হাজার ২৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দিন শেষে প্রভাবশালী সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফটের বাজারমূল্য ছিল ৬৯ হাজার ৯২০ কোটি ডলার।
বৈশ্বিক ই-কমার্স খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে অ্যামাজন। ব্যবসা সম্প্রসারণে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারমূল্যের দিক থেকে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ও গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটের পরের অবস্থানটিই এখন অ্যামাজনের। চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটের পরে রয়েছে চীনভিত্তিক ইন্টারনেট কোম্পানি টেনসেন্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। বাজারমূল্যে শীর্ষ ছয় প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট।
জানা যায়, গত বুধবার অ্যামাজনের শেয়ারদর ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৫১ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই দিন মাইক্রোসফটের শেয়ারদর ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছে। গত বছরজুড়ে অ্যামাজনের শেয়ারদর বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। এর ফলে বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তকমাটি দখলে নিতে সমর্থ হয়েছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস। গত বছরজুড়ে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর বেড়েছে ৪১ শতাংশ।
মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন দুটি দুই খাতের প্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিক ই-কমার্স খাতে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে অ্যামাজন। অন্যদিকে মাইক্রোসফট ডেস্কটপ পিসি সফটওয়্যার খাতে একক আধিপত্য ধরে রেখেছে। কিন্তু উভয় প্রতিষ্ঠান এখন ক্রমবর্ধমান ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা খাতে এরই মধ্যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে অ্যামাজন।
বাজারমূল্যের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ কোম্পানি হওয়াই নয়; ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানি হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে রয়েছে অ্যামাজন। ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য খুব একটা সহজ কথা নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ মাইলফলক অর্জন করাও চাট্টিখানি কথা নয়। বহুজাতিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই এ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারমূল্যে শীর্ষে থাকা অ্যাপলের আগেই ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হতে পারে অ্যামাজন। কিন্তু কেন প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যে এমন উল্লম্ফনের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে? ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানি হতে গেলে কী লাগে? এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। এক কথায় এর উত্তর হলো বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা এবং সম্ভাবনাময় পণ্য, যার মাধ্যমে সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানটিকে হতে হবে বাজারের শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে একজন।
ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানি হওয়ার দৌড়ে অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের তুলনায় এগিয়ে আছে অ্যামাজন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কেবল অ্যামাজনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা পরিকল্পনার কারণেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান হওয়াটা বেশ সহজ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী খুচরা বিক্রয়ের পরিমাণ ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। এর মধ্যে ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে বিক্রি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অ্যামাজন প্রতিনিয়তই অভ্যন্তরীণ খরচ কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। ই-কমার্স বাজারে নিজেদের সবচেয়ে বড় অংশীদারিত্ব ধরে রাখতেও বিভিন্ন ব্যবসা কৌশল নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি অ্যামাজনের আরেকটি বড় সম্ভাবনা হলো অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস। গোটাবিশ্বেই ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এদিক থেকে অ্যামাজন হলো প্রথম সারির ব্র্যান্ড।
