সাকিব, মিরাজ স্পিনার নয়?


paperslife

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দশক পর করেছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছে লাল-সবুজের সেনানীরা।

এই ২০ বছরে অনেক চড়াই উৎরাই পর করেছে বাংলাদেশ। অনেক অবজ্ঞা-উপহাস, কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছে। টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নেওয়ার কথাও উঠেছে প্রায়শই।

এরপরও লড়ে গেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রমাণ করার তাগিদে হারিয়েছে বড় বড় দলকে। বিশ্ব মঞ্চেও পিছিয়ে নেই তারা।

২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, কিংবা ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল বাংলাদেশের যোগ্যতারই প্রমাণ দেয়।

তারপরও ক্রিকেট বিশ্লেষক কিংবা ক্রীড়ামোদীদের মন গলাতে পারেনি বাংলাদেশ। এর সে কারণেই এবারের বিশ্বকাপে ম্যাককালামের মতে একটি ম্যাচ জিতবে টাইগাররা। যেখানে আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এমন প্রেডিকশন নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি।

ম্যাথু হেইডেন, কুমার সাঙ্গাকারা কিংবা স্কট স্টাইরিসদের মতেও খুব বেশিদূর যেতে পারবে না বাংলাদেশ। আবার অস্ট্রেলিয়ার মার্ক নিকোলাস তো সাকিবের এক নম্বর অলরাউন্ডারের জায়গা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত জয়-পরাজয়ে চতুর্থ দল নিয়ে এমন ভাবনা অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ যেন।

সর্বশেষ বোমা ফটিয়েছেন ভারতের সাবেক স্পিনার মুরালি কার্তিক। তার মতে, সাকিব-মিরাজকে তার স্পিনার বলা যাবে না!

সম্প্রতি ইএসপিএন ক্রিকইনফোর হয়ে কাজ করেছেন তিনি।। সেখানে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে এমনি এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি।

উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে কার্তিক বলেন, ‘স্লো বোলার বলবো আমি (সাকিব, মিরাজদের)। আপনি যদি কখনো বিষাণ সিং বেদির সাথে কথা বলেন তাহলে উনি বলবেন স্পিনার সেই যিনি বল ঘুরাতে পারেন। বাকি সবাই স্লো বোলার।’

তিনি আরো বলেন, ‘টপ বোলার হতে আপনাকে বল ঘোরানো জরুরি না। আমি শুধু স্পিনারের সংজ্ঞা দিচ্ছিলাম। আমি বাংলাদেশের বোলারদের ৯ দেবো ১০ এ।’

তিনি আরো যোগ করে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘স্পিনার সে যে বল ঘুরায়। হরভজন সিং স্পিনার, গ্রায়েম সোয়ান স্পিনার। কারণ তারা বল ঘুরাতে পারে। এখন আপনি যদি এইডেন মার্করামকে স্পিনার বলেন তাহলে সমস্যা।’

সে সময় উপস্থাপক পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন, মার্করাম ও মিরাজ একই জাতীয় বোলার কিনা! তখন মুরালি কার্তিক বলেন, ‘মেহেদী হাসান ঠিকঠাক বোলার। সাকিবের বলও ভেতরে আসে তবে ঘোরে না।’

উল্লেখ্য, মুরালি কার্তিক নিজে খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন। বাঁহাতে অর্থোডক্স স্পিন করা মুরালি কার্তিক ভারতের হয়ে খেলেছেন ৮ টেস্ট, ৩৭ ওয়ানডে ও ১ টি-টোয়েন্টি। তিন ফরম্যাটে তার উইকেট যথাক্রমে ২৪, ৩৭ ও ০।

খেলা ছেড়ে ৪২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বর্তমানে ধারাভাষ্য ও ক্রিকেট বিশ্লেষণে মন দিয়েছেন।