স্কুল-কলেজে ‘এক দিন সশরীর, এক দিন অনলাইন’ ক্লাসের পরিকল্পনা


স্কুল-কলেজে ‘এক দিন সশরীর, এক দিন অনলাইন’ ক্লাসের পরিকল্পনা

বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায় মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে বিশ্ববিদ্যালয় বাদে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজগুলোতে অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে ‘ব্লেন্ডেড’ পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন সশরীর এবং তিন দিন অনলাইনে ক্লাস হতে পারে।

সাশ্রয় ও শিক্ষার সমন্বয়

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন এই ‘জোড়-বিজোড়’ ফর্মুলা সাজিয়েছে। লক্ষ্য একটাই—শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা সীমিত রাখা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মডেলে সপ্তাহের ছয় দিনই পাঠদান চালু থাকবে। তবে তা হবে পর্যায়ক্রমে। উদাহরণস্বরূপ, যদি শনিবার অনলাইনে ক্লাস হয়, তবে রোববার হবে সশরীর। এভাবে এক দিন ভার্চুয়াল এবং এক দিন ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের রুটিন সাজানোর প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে করে সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং স্কুল ভবনগুলোতে এসির ব্যবহার ও বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে।

মহানগর কেন অগ্রাধিকার?

প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনা কেবল বড় বড় মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য করার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মহানগরীগুলোতে যাতায়াতে ব্যক্তিগত ও পাবলিক পরিবহনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নগরের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদাও গ্রাম বা মফস্বলের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অবকাঠামো বা ডিভাইসের সহজলভ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা। খসড়াটি নিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে আসবে চূড়ান্ত ঘোষণা। করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের যে অভিজ্ঞতা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হয়েছে, তাকেই এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল দিকগুলো:

নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা কার্যক্রমে যে পরিবর্তনগুলো আসতে পারে:

  • ব্লেন্ডেড লার্নিং: সপ্তাহে মোট ৬ দিন ক্লাস। এর মধ্যে ৩ দিন শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে অংশ নেবে এবং বাকি ৩ দিন সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবে।

  • এক দিন অন্তর ক্লাস: ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এক দিন সশরীর ক্লাসের পরদিন অনলাইনে পাঠদানের মডেলটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • জ্বালানি সাশ্রয়: বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াত হ্রাসের ফলে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় হবে।

  • বিশ্ববিদ্যালয় আওতামুক্ত: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আপাতত এই পরিকল্পনার বাইরে থাকছে, সেখানে বর্তমান নিয়মই বহাল থাকতে পারে।

শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে ক্লাস পরিচালনা করা হলে পড়ালেখার মান বজায় রাখাটাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রাযুক্তিক বৈষম্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।