হঠাৎ কেন ভারত ছাড়ছে তিব্বতিরা?


হঠাৎ কেন ভারত ছাড়ছে তিব্বতিরা?

১৯৫৯ সালের মার্চ মাসে তিব্বতে চীনের আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ৬০ বছর আগে তিব্বতিরা ভারতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু এখন সেই আশ্রয়ের ফলে তারা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ তিব্বতিদের।

এছাড়াও ১৯৫১ সালের শরণার্থী সম্মেলনের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ভারত।

আর এর জন্য অনেক বছর থেকেই কুনসাং তেনজিং (৩৪) তার পরিবার ও বন্ধুদের মতো ভারত ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।

তথ্য অনুযায়ী ভারতে তিব্বতি শরণার্থী সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ কমে গেছে। ২০১১ সালে তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার; বর্তমানে তা ৮৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর তারা ভারতে শরণার্থী হয়ে আসার হীরক জয়ন্তী উৎসব পালন করবে বলে জানা যায়।

কতৃপক্ষ বলছে, বেশিরভাগ তিব্বতই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডে পাড়ি জমাচ্ছেন। অনেকে আবার মাতৃভূমি তিব্বতেও ফিরে যাচ্ছেন। সারাবিশ্বের বর্তমানে প্রায় ৪০ দেশে ১ লাখ ৫০ হাজারের মত তিব্বসি অভিবাসী রয়েছে।

যদি এভাবে ভারত ছেড়ে তিব্বতিরা অন্য জায়গায় যাওয়া চলতে থাকে তাহলে আধ্যাত্নিক নেতা দালাই লামার জন্য এখনো যারা ভারতে অবস্থান করছেন সেই তিব্বতি সম্প্রদায়ের ভবিষ্যত কী হবে?  এটা নিয়ে সন্দিহান তিব্বতিরা নিজেও।

তিব্বতিদের এখনো সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি ভারত সরকার। ফলে তাদেরকে আজও  বিদেশী বলেই গণ্য করা হয়। সেহেতু ভারতে জীবিকা নির্বাহ বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে তাদের জন্য। সেখানে তাদের জন্য খুব কম চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তারা।

ভারতের ধর্মশালায় নির্বাসিত তিব্বতি সরকার সেন্ট্রাল তিব্বতিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের  (সিটিএ) মুখপাত্র সোনাম নর্বু দাগপো বলেন, ভারত সরকার তিব্বতিদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা কোনো সরকারি চাকরির সুবিধা পায় না। এমনকি অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তিব্বতি ছাত্রদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয় না।

এদিকে তিব্বতিয়দের প্রতি ভারতের সমর্থন হ্রাস পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর ভারত সরকার হীরক জয়ন্তী উৎসবে আমলা ও নেতাদের উৎসবে যোগদানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

উত্তর ভারতের ছোট পাহাড়ি শহর ম্যালিওড তিব্বতিদের অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে বেশ পরিচিত। সেখানে বসবাসরত প্রত্যেকের জীবনেরই রয়েছে বেদনাদায়ক বিচ্ছেদের গল্প।

এক তিব্বতি বলেন, তিব্বত ছেড়ে আসার পর আশা না হারিয়ে নতুন জীবনের খোঁজে নামেন তিনি। শরণার্থী হয়ে আসা মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি স্টোরিস অব তিব্বতিয়ান (এসওটি) নামে গণমাধ্যমে প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর মূল বিষয় হলো, রাজনৈতিক সংগ্রামের বাহিরে তাদের পরিচয় তুলে ধরা।

জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিব্বতি শরণার্থীদের বিষয়ে তেমন কোনো ডকুমেন্ট তৈরি হয়নি। সবসময়ই তাদের রাজনৈতিক সংগ্রামকে সামনে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। কাজেই এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ তিব্বতিদের বুঝতে সহায়তা করবে।’