২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১ দশমিক ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করবে। এটা হবে এ অঞ্চলের মোট উৎপাদনের (জিডিপি) ৬০ শতাংশ।
মাইক্রোসফট ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) অংশীদারিত্বে পরিচালিত ‘আনলকিং দ্য ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট অব ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ইন এশিয়া প্যাসিফিক’ শীর্ষক এক জরিপ প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৫টি দেশের মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৫৬০ জন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত প্রণেতাদের নিয়ে জরিপটি পরিচালিত হয়। গতানুগতিক ব্যবসায়িক মডেলে ডিজিটাল রূপান্তর যে প্রভাব ফেলছে, তার ওপর জোর দিয়ে জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপের তথ্যমতে, আগামী চার বছরে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে। গত বছর এ অঞ্চলের জিডিপির ৬ শতাংশ সরাসরি ডিজিটাল পণ্য ও সেবা থেকে এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন— মোবিলিটি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী চার বছরে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা থেকে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জিডিপি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
সিঙ্গাপুরে এক ব্রিফিংয়ে আইডিসির রিসার্চ ডিরেক্টর ড্যানিয়েল-জো জিমিনেজ বলেন, শিল্প খাতের সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল রূপান্তরের ছোঁয়া লেগেছে, যা সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিনিয়ত ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন পন্থা তৈরি করছে। এতে ডিজিটাল অর্থনীতির পরিসর দ্রুত বাড়ছে। ডিজিটাল রূপান্তর খুব দ্রুতগতিতে হচ্ছে। ডিজিটাল শিল্পের নেতারা উৎপাদনশীলতা, ব্যয় কমানো ও গ্রাহক সেবাদানের মাধ্যমে অন্যদের চেয়ে দ্বিগুণ সুবিধা লাভ করবেন। বিদ্যমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই নতুন মেট্রিকস, অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং প্রযুক্তি প্লাটফর্ম নতুন করে সাজাতে হবে।
মাইক্রোসফট এশিয়ার প্রেসিডেন্ট রালফ হপ্টার বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণে নেতৃত্বের মানসিকতা থাকতে হবে। এতে তারাই শেষ পর্যন্ত লাভবান হবেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পণ্য ও সেবার বিস্তৃতি এবং নতুন তথ্যের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন বাড়াতে নিজেদের ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। কারণ একটা পর্যায়ে তথ্যই প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় সহায়তার জন্য মাইক্রোসফট বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ও সলিউশন সুবিধা রয়েছে। যেখানে গ্রাহক তথ্যের সমন্বয় ও আস্থাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে চলা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বুঝি কোনো প্রতিষ্ঠানকে তাদের পথচলায় সফল হতে কী প্রয়োজন।
রালফ হপ্টার বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনীতিতে ডিজিটাল রূপান্তরের উত্থান শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলবে। যেখানে অনেক ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কাজের ধরন পরিবর্তন হবে। বাজারে বর্ধিত চাহিদা মেটাতে ‘হায়ার ভ্যালু আউটপুট’ পেতে শ্রমিকদের নতুন করে দক্ষ হতে হয়, যেটা আসলে চাকরির রূপান্তর ঘটায়। এটা উৎসাহব্যঞ্জক যে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ খুবই আত্মবিশ্বাসী, তাদের তরুণ কর্মীরা এরই মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। এটা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নতুন ভূমিকায় উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।
আইডিসির তথ্যমতে, আগামী চার বছরের মধ্যে ৪০ শতাংশ ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো সেবা সরবরাহ এবং নতুন আঙ্গিকের ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা অর্জন করবে দ্রুত, যা এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
