বর্তমানে পুরুষেরা নিজেকে আরও আকর্ষণীয় ও সুন্দর হিসেবে উপস্থাপন করতে নানা রকম প্রসাধনী ব্যবহার করছেন। এর পাশাপাশি নিজের যৌনাবেদনময় ও পুরুষ-দীপ্ত হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে নিজের পুরুষত্ব হারিয়ে ফেলছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এক গবেষণায় সে বিষয়টি উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেমস মোসাম জানিয়েছেন, নিজেদের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা পরীক্ষা করাতে আসা পুরুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তারা সবাই পেশীবহুল শরীর তৈরি এবং মাথায় কৃত্রিম উপায়ে চুল বাড়ানোর জন্য ওষুধ ব্যবহার করেছেন। এর ফলে তাদের শুক্রাণু সংখ্যা এত কমে যায় যে তারা একেবারেই সন্তান উৎপাদন করতে পারছিলেন না।
পেশীবহুল শরীর বানানোর জন্য যে অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার হয়, তা পুরুষের হরমোন টেস্টোস্টেরনের নিঃসরণ বাড়ানোর কথা। কিন্তু অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের কারণে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্লান্ড শুক্রাণু তৈরির দুটি মূল হরমোন এফএসএইচ ও এলএইচের উৎপাদন কন্ধ করে দেয়। একই ঘটনা ঘটে যখন কোনও পুরুষ টাক ঠেকানোর জন্য তৈরি ওষুধ ব্যবহার করে।
ড. মোসাম বলছেন, ‘এর ফলে একজন পুরুষ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়ে যেতে পারেন। এটা একটা আজব বিষয় যে পুরুষ নারীকে আকর্ষণ করার জন্যই জিমে যাচ্ছেন, স্টেরয়েড নিচ্ছে, কিন্তু শেষ বিচারে তা তাকে পুরুষত্বহীন করে দিচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধের উপায় সম্পর্কে পুরুষদের সচেতন হতে হবে।’

