ছুটির দিনে (পর্ব ১২) | সাকিব আহমেদ


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

(একাদশ পর্বের পর)

 

‘হ্যালো,’ ফোন রিসিভ করে বলল সাদ।

‘সাদ, তোরা কোথায়?’ কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা না দেখিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করল বিপুল।

‘আমরা তো অমিদের গ্রামের বাড়ি ঘুরতে এসেছি।’ বলল সাদ। জিজ্ঞেস করল, ‘কেন, কি হয়েছে?’

‘সানজিদার বাবা সানজিদার খোঁজে ভার্সিটি এসেছে।’ বলল বিপুল। এরপর সকাল থেকে কি ঘটেছে, পুরোটা বিস্তারিত বলে গেলো। কিছু না বলে চুপচাপ শুনল সাদ। বিপুলকে পুরো ঘটনা বলে যেতে সময় দিলো।

‘এবার কি করব, সাদ?’ সবকিছু বলার পর জিজ্ঞেস করল বিপুল।

‘তুই কিছু বলিসনি তো?’ সাদের জিজ্ঞাসা।

‘না।’ জবাব দিলো বিপুল। ‘তকে জিজ্ঞেস না করে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।’ একটু চুপ থেকে বিপুল আবার বলল, ‘আঙ্কেল সানজিদাকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছে। আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আঙ্কেলের কষ্ট সহ্য করতে পাছিলাম না, আবার তোদের না জিজ্ঞেস করেও তোদের নাম্বার দিতে পারছিলাম না। তাই তোকে ফোন দেওয়া!’

কি যেন ভাবল সাদ। তারপর বলল, ‘তুই আঙ্কেলকে আমার নাম্বার দিয়ে দে। আর আঙ্কেলকে বলিস সানজিদা ভালো আছে, চিন্তা যেন না করে।’

‘ঠিক আছে,’ বলে ফোন কেটে দিলো বিপুল। সাদ ভাবছে, ঠিক করল কিনা বিষয়টা। সানজিদা শুনলে রাগ করতে পারে। সে আঙ্কেলকে প্রচণ্ড ভয় পায়। আবার আঙ্কেলকে না জানালে নিজের কাছে অপরাধী থেকে যেতো। তাই জানানোতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। এছাড়া এ ঘটনায় শুরু থেকেই মত ছিল না সাদের। শুধু বন্ধুদের মন রাখতে রাজী হয়েছিল। সবার বাসা জানে ওরা কোথায়, কেমন আছে। শুধু সানজিদার বাসা ছাড়া। বাবা-মা’র তো চিন্তা হবে, এ তো স্বাভাবিক।

মাথা থেকে সব চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলল সাদ। এতো ভেবে কোনো লাভ নেই। যা হবে তা পরে দেখা যাবে। ফোন নিজের জিনসের পকেটে রেখে বন্ধুদের সাথে জয়েন করল।

সকালের নাশতাতেও এলাহী ব্যাপার! রাজা বাদশাদের মতো টেবিল জুড়ে খাবারের আয়োজন। এতোকিছু ওরা খেতে না পারলেও সব খাবারই অল্প স্বল্প চেখে দেখছে। অপূর্ব স্বাদ! এই অপূর্ব স্বাদের দিওয়ানা হয়ে খেয়েই চলেছে রিফাত। এতো খাবার কি করে রিফাতের পেটে জায়গা করে নেই ভেবে পায়না বন্ধুরা। সুযোগ পেলে পচাতেও ছাড়ে না।

ক্রেন এনে তোকে টেনে তুলতে হবে।’ অমির কথায় কান দিলো না রিফাত। নিজের মতো করে খেয়েই চলল।

‘আমি বুঝি না, তোর ওইটা পেট না অন্য কিছু? যা-ই ভেতরে দিস, সবই দেখি হজম হয়ে যায়!’ অমির সাথে তাল মিলিয়ে বলল নিলয়।

‘আমি খেতে পছন্দ করি বলে, আল্লাহ আমার পাকস্থলী এভাবেই তৈরি করেছে।’ এবার জবাব দিলো রিফাত। মুখ ভর্তি খাবার নিয়েই বলল সে। ‘যা খাই, সব হজম করে নিতে পারি।’

‘তোর পাকস্থলীর একটা পার্ট আমাকে দে,’ বলল সানজিদা। ‘তাহলে আমিও একটু খেতে পারি।’ বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে কম খায় সানজিদা। রিফাতের যেমন খাবারের জন্য পেটে অঢেল জায়গা, সানজিদার তেমন জায়গাই নেই। পাখির খাবারের মতো অল্প খাওয়ার পরই কি করে তার পেট ভরে যায় ভেবে পায় না বন্ধুরা। তেমনি ভেবে পায় না, রিফাতের পেটে এতো কিছুর জায়গা হয় কিভাবে?

বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, হাসি-ঠাট্টায় যোগ দিলো না সাদ। চুপচাপ শুনছে সব, আর নিরবে খেয়ে যাচ্ছে। যেকোনো সময় সানজিদার বাবা ফোন করতে পারে। সাদ এখন সেই চিন্তায় বিভোর। এর পরের সময় কিভাবে সামাল দিবে ভাবছে। সাদের ভাবনায় ছেদ পড়ল অমির কথায়।

‘তুই কিছু বলছিস না যে, সাদ?’ জিজ্ঞেস করল অমি।

‘ঠিকই তো!’ অমির কথাতেই যেন সম্মতি দিলো সানজিদা। ‘চুপ কেন তুই?’

কিছু না বলে হাসল সাদ। মনে মনে বলল, আমি কেন চুপ তুই যদি জানতি! মুখে বলল, ‘নারে, কিছু না। এমনিতেই।’

‘কোনো সমস্যা?’ নিলয়ের জিজ্ঞাসা।

সমস্যা বলে সমস্যা? কি যে সমস্যা তোদের তো বলতেও পারছি না! মনে মনে কথাগুলো বলল সাদ।

সবাই কিছু না কিছু বলছে। রিফাতের মনে হলো তারও কিছু বলা উচিৎ। মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে অবশ্য কিছুই বলতে পারল না সে।

এমন সময় সাদের ফোন বেজে উঠল। ডাইনিং টেবিলের উপরে রাখা সাদের মোবাইল ফোনে অপরিচিত নাম্বার ভেসে উঠেছে। নিশ্চয়ই সানজিদার বাবা! ভাবল সাদ।

‘তোর ফোন এতো বাজে কেন?’ বিরক্ত হয়ে বলল সানজিদা। ‘ঘুরতে এসেছি আমরা, আর উনার খালি ফোন আসে। কে করে এতো ফোন? প্রেমও তো করিস না।’

সানজিদার কথার জবাব দিলো না সাদ। উঠে গেলো ফোন রিসিভ করতে।

‘হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।’ ফোন রিসিভ করল।

‘হ্যালো,’ অপর প্রান্ত থেকে জবাব এলো। ওপাশের কথা শুনে ফিরে এলো সানজিদার কাছে। সানজিদার উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে ধরল, ‘তোর ফোন।’

‘আমার ফোন?’ অবাক হয়ে বলল সানজিদা। সাদের নম্বরে সানজিদাকে কে ফোন করবে?

ফোন নিতে হাত বাড়াল সানজিদা। ফোন সানজিদার হাতে দেওয়ার আগে সানজিদাকে সাদ বলল, ‘এখানে না! দূরে যেয়ে কথা বল।’

কেন দূরে যেতে হবে, এখানে বললে কি সমস্যা বুঝতে পারল না সানজিদা তবুও সাদের কথা মতো ফোন হাতে নিয়ে আড়ালে গেলো কথা বলার জন্য। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না বন্ধুরা। সানজিদা যাওয়ার পর সবাই সাদকে ধরল, কি হচ্ছে জানার জন্য। কিছুই বলল না সাদ। শুধু বলল, সানজিদা আসলে সবই জানা যাবে।

চলবে…

পেপারস লাইফ/গল্প/সাকিব আহমেদ

পড়ুন:

ছুটির দিনে (পর্ব ১১)

ছুটির দিনে (পর্ব ১০)

ছুটির দিনে (পর্ব ৯)

ছুটির দিনে (পর্ব ৮)

ছুটির দিনে (পর্ব ৭)

ছুটির দিনে (পর্ব ৬)

ছুটির দিনে (পর্ব ৫)

ছুটির দিনে (পর্ব ৪)

ছুটির দিনে (পর্ব ৩)

ছুটির দিনে (পর্ব ২)

ছুটির দিনে (পর্ব ১)