ফ্রান্স ও ইতালির পর জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো এবং শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবিতে এবার জার্মানিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ। দিনের বেলায় কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতের অন্ধকারে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে তা ব্যাপক সহিংসতা, লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ইউরোপজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঢেউ এবার প্রবলভাবে আছড়ে পড়ল জার্মানির রাজপথে। গত কয়েক মাস ধরেই মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে তরুণ সমাজ তাদের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। প্রতিবেশী ফ্রান্স এবং ইতালিতে একই ধরনের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার জার্মানির বিভিন্ন শহরের তরুণরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পথে নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণের নাগালে আনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাষ্ট্রীয় অনুদান বৃদ্ধির দাবি স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল। করোনা মহামারি ও পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে ইউরোপে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছেন এই শিক্ষার্থীরা।
সকাল থেকেই দলে দলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ তরুণরা নির্ধারিত স্থানগুলোতে জড়ো হতে থাকেন। সে সময় পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের ভেতরেই ছিল। স্লোগান আর প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের অধিকারের কথা তুলে ধরছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাদের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু সন্ধ্যা নামার পরপরই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে থাকে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে (Frankfurt) পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়। সেখানে একদল বিক্ষুব্ধ তরুণ হঠাৎ করেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। শহরের মূল সড়কের পাশের বিভিন্ন বিপণিবিতানের কাঁচের জানালা ভেঙে ফেলা হয়। বেশ কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় দাঙ্গা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায় এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

