বদলে গেল এইচএসসির ফল জানার পদ্ধতি; নতুন নিয়ম জানুন


কমেছে জিপিএ-৫ ও পাসের হার

আগামী ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় সারাদেশে একযোগে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। তবে এবার মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানার পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ১৬২২২ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানতে পারতেন। এবার সেই পুরনো নম্বরের বদলে নতুন ১৬১৪০ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জারি করা এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারিগরি সুবিধা এবং দ্রুততার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে কাঙ্ক্ষিত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।

কেবল খুদে বার্তা নয়, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন মুহূর্তেই মার্কশিটসহ রেজাল্ট দেখা সম্ভব। ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে তাদের অর্জিত নম্বর সংগ্রহ করতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটগুলোতে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বসিয়ে খুব সহজেই ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট বা পেপারলেস ফলাফল ডাউনলোডের সুযোগও থাকছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে নিজস্ব প্যানেল থেকে পুরো কলেজের ফলাফল একসঙ্গে সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেটে খোঁজার আগেই প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত ফলাফল জানানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রতি বছরই ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরীক্ষার ফলাফলের দিন ইন্টারনেট সংযোগের ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকে। ওয়েবসাইটগুলোতে একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ প্রবেশ করার কারণে সার্ভার ধীরগতির হয়ে যায়। শহর অঞ্চলে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড বা ফোরজি (4G) নেটওয়ার্ক সহজলভ্য হলেও গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মোবাইল ফোন থেকে ১৬১৪০ নম্বরে একটি সাধারণ এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানার পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। ইন্টারনেট ডেটা কিনে ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজাল্ট দেখার চেয়ে তাদের কাছে কয়েক টাকার বিনিময়ে একটি এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল পাওয়াটা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা বা চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ১৬১৪০ নম্বরটি ফলাফল জানার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

নতুন এই নম্বরটি যেন সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও উদ্যোগী হতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক নম্বরে মেসেজ না পাঠালে ফলাফল পেতে বিলম্ব হতে পারে, যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি করবে। মেসেজ পাঠানোর সাধারণ নিয়মটি আগের মতোই থাকছে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখতে হয়। এরপর আবারও স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং শেষে স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে পাঠাতে হয়। আগে এই পুরো বার্তাটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠানোর নিয়ম থাকলেও এখন তা ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি বার্তায় খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীর মোবাইল স্ক্রিনে জিপিএ (GPA) জানিয়ে দেওয়া হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে, যেন ৩১ তারিখ সকালে কোনো শিক্ষার্থী ভুল নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে বিভ্রান্তির শিকার না হয়।