যেভাবে ছড়ায় করোনা, মানুষের মৃত্যু হয় যে কারণে


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনায় এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিনিয়তই এই ভাইরাস আমাদের আতঙ্কিত করে তুলছে।

কিন্তু কীভাবে এরকম মারণ হয়ে ওঠে করোনা ও কীভাবে তা মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে যা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়? সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবশ্য জানা যায়নি। তবে গবেষণা চলছে। আর আপাতত গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে, সেই অনুযায়ী করোনাভাইরাস কিন্তু ততটাও মারাত্মক নয়। করোনায় আক্রান্তের মধ্যে তিন থেকে চার শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়।

এইমসের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান শোভা ব্রুর বলেন, ‘কভিড-১৯’ খুব মারাত্মক নয়। তবে অত্যন্ত সংক্রামক। যেহেতু অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন, তাই মৃতের সংখ্যাটাও বেশি হয়। অত্যন্ত সংক্রামিত হাম ও চিকেন পক্সের সঙ্গে প্রায় এক সারিতে রয়েছে এটা। তবে এখনও পর্যন্ত এটার (কভিড-১৯) কারণ জানা যায়নি। যা জানা গিয়েছে, তাতে ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্র থেকে গ্যাস্ট্রো-ইনটেন্সিনাল ট্র্যাক্টে যায়। ক্রমশ তা রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয়।

এছাড়াও, বিখ্যাত জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গলার পিছন থেকে SARS-COV-2 ভাইরাস ক্রমশ ফুসফুস ও রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। উহানের ১৯১ জন আক্রান্তের শরীরে কীভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করে যে তথ্য উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতেই একথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শরীরের মধ্যে প্রবেশের পর স্পাইকের মতো দেখতে প্রোটিন ব্যবহার করে অ্যাঙ্গিওটেসস্টিন রূপান্তরকারী এনজাইম ২ (ACE-2) নামক রিসেপটরের সঙ্গে সংযুক্ত হয় করোনাভাইরাস। যে এনজাইম ২ শ্বাসযন্ত্রের কোষে পাওয়া যায়। সেই রিসেপটরের মধ্যে ঢুকে সংক্রমণ ছড়ায় ভাইরাসটি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গুণিতক হারে বাড়তে বাড়তে ভাইরাস ফুসফুসে পৌঁছায়। ফলে অ্যাবভেওলিতে (ছোটো বায়ুর থলি, যেখানে রক্ত ও ফুসফুস কার্বন ডি-অক্সাইড ও অক্সিজেন বিনিময় করে) ইনফ্লেমেশন হয়। ফলে সেই ছোট্ট থলিতে ফ্লুইড ও পুস (সংক্রমণের কারণে হলুদ বা সবুজ আভাযুক্ত ঘন ফ্লুইড) ভরে যায়। তার জেরে নিউমোনিয়া হয়। ইনফ্লেমড ফুসফুসের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আট থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাকউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম হয়।

পাশাপাশি, ওই রোগীদের বিশ্লেষণের ফলে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে ৪৮ শতাংশের একাধিক ডিসঅর্ডার রয়েছে। ৩০ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। ডায়াবেটিস ও করোনারি হৃদরোগ রয়েছে যথাক্রমে ১৯ ও ৮ শতাংশ আক্রান্তের।

এ বিষয়ে ভারতের কর্ণাটকের আচার্য ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট এন্ড সায়েন্সেস (এইমস) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান বলেন, ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের সঙ্গে কভিড-১৯-এর ৭০ শতাংশ মিল রয়েছে। তবে তা একেবারেই ভালো মিল নয়। এই ভাইরাসটি বাদুড়ের করোনাভাইরাসের কাছাকাছি গোত্রের। তবে সার্স আক্রান্তরা যেভাবে মারা গিয়েছিলেন, তা থেকে অনুধাবন থেকে করতে পারি যে এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাইটোকিন স্ট্রমের ফলে মৃত্যু হচ্ছে।

হিন্দুস্থান টাইমস