জাহিদ বিন মনির
শিশুর চঞ্চলতা প্রায় সবার মনেই ভালো লাগা জাগায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের চঞ্চলতাকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই নেই। তবে এই চঞ্চলতা যখন একটা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তখন কিন্তু সেটা উদ্বেগের বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চঞ্চলতাই শিশুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য। শিশুরা যখন-তখন হাসবে, খেলবে, দুষ্টুমি করবে, হইচই করবে, সমবয়সী ও সহোদরদের সঙ্গে ঝগড়া করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে ভাবনার বিষয় হলো যদি শিশুর এ চঞ্চলতা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে এবং তার কারণে শিশুর দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় এডিএইচডি। এটি সাধারণ মানসিক ব্যাধিগুলোর একটি, মস্তিষ্কের মনোযোগ-সংক্রান্ত এক ধরনের অসুস্থতা।
এডিএইচডি সাধারণ মানসিক ব্যাধিগুলোর একটি। এটি মস্তিষ্কের মনোযোগ-সংক্রান্ত এক অসুস্থতা। Attention Deficit মানে মনোযোগের অভাব, আর hyperactivity মানে অতি চাঞ্চল্য। এডিএইচডি মূলত শিশুদের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায়, তবে শিশুদের ছাড়াও অনেক প্রাপ্তবয়স্কের এই ব্যাধি প্রভাবিত করে।
রোগের লক্ষণ;
এডিএইচডির মূল তিনটি উপসর্গ হলো ইন-অ্যাটেনশন (মনযোগ রাখতে সক্ষম নয় এমন), হাইপারঅ্যাকটিভিটি (প্রয়োজনের তুলনায় অতি-সক্রিয়) এবং ইম্পালসিভিটি (চিন্তা ছাড়াই দ্রুত ঘটে এমন কাজ)। এই রোগে সাধারণত শিশুদের মধ্যে অন্যমনস্কতা, অতিরিক্ত চঞ্চলতা, অস্থিরতা, দস্যিপনা ও অতি আবেগের সমস্যা দেখা দেয়৷ এতে শিশুরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগে। মনোযোগের অভাব ও প্রয়োজনের চেয়ে অতি-সক্রিয় হওয়ার দরুন শিশুরা তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও কেতাবি শিক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রোগের কারণ;
অতীতে এডিএইচডির সঙ্গে জিনগত সম্পর্কের কথা বলা হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ‘মলিকিউলার সাইকিয়াট্রি’ বিভাগের অধ্যাপক রয় পেরলিসের গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় মানসিক রোগের ওষুধ সেবন বাচ্চার এডিএইচডি হওয়ার পেছনে বহুলাংশে দায়ী। এডিএইচডির কারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এর নির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় এখনো সম্ভব হয়নি। তবে আপাতদৃষ্টিতে গবেষকেরা মনে করছেন, শরীরে জিংকের ঘাটতি ও শিশু খাদ্যের সঙ্গে মেশানো কৃত্রিম রং এডিএইচডি জন্ম দিতে পারে। অপুষ্টিজনিত কারণে এবং বংশগত কারণে শিশুর মধ্যে এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার গর্ভাবস্থায় ধূমপান, কোনো প্রকার মাদক সেবন বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ সেবন থেকেও শিশুর মধ্যে এডিএইচডি দেখা দিতে পারে।
এডিএইচডি সাধারণত ছোটবেলাতেই, বিশেষ করে সাত বছর বয়সের আগে ধরা পড়ে। একজন বাচ্চা যত বড় হতে শুরু করে তত তার মধ্যে অস্থিরতা এবং হঠকারিতা কমতে থাকে। কিন্তু অমনোযোগের সমস্যা থেকে যেতে পারে। কিন্তু বড়দের যখন এডিএইচডি সমস্যা হয় তখন তার আলাদা বিশেষত্ব থাকে।
চিকিৎসা;
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিএইচডি দূর করতে ওষুধই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেন অনেকে। এটা ভুল। সাধারণত এডিএইচডির ওষুধগুলোর প্রভাব ছয় ঘণ্টা থেকে আট ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কাজেই ওষুধের পাশাপাশি সমস্যার কার্যকরী চিকিৎসা হিসেবে আচরণগত ও জীবনযাত্রাগত নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে।

