রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি উদ্বেগজনক গবেষণা প্রকাশ করেছে। সদ্য প্রকাশিত এই টিআইবি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে বর্তমানে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক ওই গবেষণায় দল পরিচালনার প্রতিটি স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে যে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন, তার একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ মিলল এই গবেষণার মাধ্যমে। দলগুলোর দৈনন্দিন সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত অর্থ এবং পেশিশক্তির অবাঞ্ছিত প্রভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দল পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে ত্যাগী, আদর্শবান ও মাঠপর্যায়ের প্রকৃত রাজনীতিকরা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন এবং রাজনীতি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।
গবেষণার একটি অন্যতম চাঞ্চল্যকর দিক হলো রাজনীতিতে অপরাধীদের অবাধ বিচরণ। নতুন প্রকাশিত এই টিআইবি প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কোনো কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষাকবচ দলগুলোর নেই। দলে নতুন সদস্য সংগ্রহ, মনোনয়ন প্রদান বা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত ইতিহাস, সম্পদের উৎস কিংবা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয় না। গঠনতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব থাকায় শীর্ষ নেতৃত্বের একক বা গুটিকয়েক নেতার মর্জিতেই অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি বণ্টন করা হয়ে থাকে। কাঠামোগত এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কালোটাকার মালিক, দুর্নীতিবাজ ও চিহ্নিত অপরাধীরা সহজেই রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে নিচ্ছেন।

