বার্সার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন, মাঠেই জবাব দিতে চান ফ্লিক



ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এই প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখলেও নিজেদের সেই পর্যায়ের দল হিসেবে প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন বার্সেলোনার। এমনটাই মনে করেন কাতালান ক্লাবটির প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে হারের পর দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমালোচনা ও সংশয়কে স্বাভাবিক বলেই দেখছেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরে তিন ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। যদিও প্রতিযোগিতার শুরুতে বেশ দাপট দেখিয়েছিল দলটি। ফেইনুর্দ ও গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরু করলেও সর্বশেষ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে হারতে হয়েছে তাদের।

বার্সেলোনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে রক্ষণভাগ। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১৮ ম্যাচ ধরে প্রতিপক্ষের গোল ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে ক্লিনশিটের দেখা পাচ্ছে না কাতালানরা।

তবে আক্রমণভাগের পারফরম্যান্সে রয়েছে উল্টো চিত্র। ফ্লিকের অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯৭ গোল করেছে বার্সেলোনা। ২৯ ম্যাচে তাদের মোট গোল ৮৬টি। ক্লাবটির ইতিহাসে কোনো কোচের অধীনে এটিই সর্বোচ্চ গোলের গড়।

এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী পরীক্ষায় বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা। ম্যাচটির আগে দলের সামর্থ্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ফ্লিক।

বার্সেলোনাকে ঘিরে সমালোচনা প্রসঙ্গে জার্মান এই কোচ বলেন, এসব আলোচনা তাঁকে অবাক করছে না। তাঁর মতে, বাস্তবতা মেনে নিয়েই দলকে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। ফ্লিকের ভাষায়, নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারলেও ফলাফল প্রত্যাশামতো আসেনি। এ জন্য কোনো অজুহাত দিতে চান না তিনি।

তবে দলের সামগ্রিক মান নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারাননি বার্সা কোচ। তাঁর বিশ্বাস, পারফরম্যান্সের বিচারে তারা রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির সমপর্যায়ে রয়েছে। অতীতের ফলাফল নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের ম্যাচগুলোতে মনোযোগ দিতে চান তিনি।

ফ্লিক বলেন, এখন তাদের সামনে অ্যাস্টন ভিলা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকায় লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—দুই প্রতিযোগিতাতেই শিরোপা জয়ের লক্ষ্য অটুট। সাম্প্রতিক দুই ম্যাচের হার সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কোনো পরিবর্তন আনেনি।

শুধু নিজেদের দল নয়, প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলার শক্তিমত্তা নিয়েও যথেষ্ট সচেতন ফ্লিক। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সময় ম্যাচে এগিয়ে থেকেছে ইংলিশ ক্লাবটি। তাদের এগিয়ে থাকার মোট সময় ২৪০ মিনিট ৯ সেকেন্ড। পাশাপাশি মাত্র তিনটি দলের একটি অ্যাস্টন ভিলা, যারা এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়েনি।

ভিলার কোচ উনাই এমেরির প্রশংসা করতেও ভোলেননি ফ্লিক। তাঁর মতে, এমেরি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। তাঁর অধীনে দলটির খেলার ধরনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশল ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সেট-পিসে ভিলার প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসকে আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ফ্লিকের মূল্যায়নে, অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না। শক্তিশালী একটি দলের পাশাপাশি কৌশলী কোচের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনা ও অ্যাস্টন ভিলার লড়াইয়ে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপিয়ান সুপার কাপের দুই লেগের লড়াইয়ে।

সেবার প্রথম লেগে বার্সেলোনার মাঠে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল অ্যাস্টন ভিলা। কিন্তু ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে শিরোপা জিতে নেয় ইংলিশ ক্লাবটি।

দীর্ঘ ৪৩ বছর পর আবারও দুই দলের মুখোমুখি হওয়া ঘিরে তাই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শিরোপার দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে দারুণ ছন্দে থাকা অ্যাস্টন ভিলা চাইবে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে কাতালানদের সেই যাত্রায় বাধা সৃষ্টি করতে।