আইডি ডিএক্টিভেট | তিথি রায় পূজা


ফেসবুক পেজ
ফেসবুক পেজ


হাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে ফেসবুকে লগইন করলো নির্জন। সঙ্গী এক এসট্রে ছাই আর দু’চোখের নীচে গাঢ় কালী। উদ্দেশ্য মৃদুলার টাইমলাইন স্ক্রল করা….

হুট করে কয়েকটা বীট মিস হয়ে গেলো নির্জনের! এ কি দেখছে সে? মৃদুলার আইডি ডিএক্টিভেট কেন? ব্লক যে করবেনা, সেই বিশ্বাস এখনো আছে নির্জনের। তাহলে হঠাৎ এমন কি হলো যে মৃদুলা আইডি ডিএক্টিভ করলো? নাহ্! খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে তো মেয়েটা কে নিয়ে!

রাত এখন তিনটা সাঁইত্রিশ। ফোন তো দেয়াই যায়। কিন্তু ফোন দিলেই তো- প্রথমত, রোদেলা নন স্টপ কান্নাকাটি করবে। ওর প্রতি ফোঁটা চোখের পানি নির্জনের বুকে গিয়ে বিঁধে। এই পৃথিবীতে নির্জনের একটাই দুর্বলতা। সেটা হলো মৃদুলার চোখের পানি৷ তাই সে সহজে না মৃদুলার ফোন রিসিভ করে আর না নিজে থেকে মৃদুলাকে ফোন করে।

তিথি রায় পূজার গল্প “নারীর দৃঢ়তা”

এবং দ্বিতীয়ত, প্রতিটা কথাই মেয়েটা প্যাঁচাবে। অতি অবশ্যই ফোন রিসিভ করে তার প্রথম কথা হবে ‘এটাও সম্ভব, কল কি ভুল করে চলে এলো আমার কাছে অথবা সূর্য কোন দিকে উঠলো’ ধরনের প্যাঁচানো কথা!

অথচ একসময় মেয়েটার এইসব প্যাঁচানো কথার প্রেমেই পড়েছিলো নির্জন। না, আর কিছুই ভাববেনা সে। এখনই মৃদুলা কে ফোন করবে, যা হবার হোক, যা বলার বলুক মৃদুলা। সাত পাঁচ না ভেবে কল দিয়েই দিলো নির্জন…..

মৃদুলা ফোন টা রিসিভ করেই কাঁদতে কাঁদতে বলল-
মৃদুলা: ‘তোমাকে ভালোবাসা টা ছিলো আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল। আমি তোমাকে কখনোই ক্ষমা করবোনা!’
নির্জন: ‘ভালোবাসা কখনো ভুল হয়না, ভুল হয় ভালোবাসার মানুষ গুলো। আমাকে তুমি ভুল বলতেই পারো। কিন্তু, আমাকে ভালোবেসে তোমার ভালোবাসা কখনোই ভুল নয়। ভালোবাসা হলো পৃথিবীর সবথেকে শ্রেষ্ঠতম শুদ্ধ অনুভূতি।’
মৃদুলা: প্লিজ তুমি চুপ করো নির্জন, আমাকে আর তোমার ওই কথার জালে জড়িও না!
নির্জন: ফেসবুকে তোমাকে না পেয়ে মন খারাপ লাগছিলো। পুরনো মেসেজ গুলো পড়ছিলাম। খুব মনে পড়ছিল তোমার কথা। আর হুট করে তোমার আইডি ডিএক্টিভ দেখলাম। তাই তোমাকে ফোন দিলাম।
মৃদুলা: আমাকে তোমার মনে পরে তাহলে? সময় হয়? আমি সম্পর্কিত কিছু মনে করার?
নির্জন: পাগলামি করোনা। সারাজীবন তো ইমম্যাচিউর হয়েই রয়ে গেলে। একটু বাস্তবতা বুঝতে চেষ্টা করো।
মৃদুলা: আমি তো নতুন পাগল নই। তোমার জন্য আমি পাগল ছিলাম, আছি, এবং অবশ্যই ভবিষ্যতেও থাকবো। একসময় তো এই পাগল মেয়ের পাগলামিতেই প্রেমে পরেছিলে। তো এখন হুট করে এতো এ্যলার্জি কেন শুনি?
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কথা বলছে মৃদুলা।
নির্জন: সবসময় অতীত আঁকড়ে পরে থেকোনা মৃদুলা। দেখবে এমন একটা সময় আসবে যে এখনকার এইসব পাগলামি গুলো ভেবে তুমি হাসবে। এমন একজন আসুক তোমার লাইফে যে তোমার সব কষ্ট গুলো ভুলিয়ে দেবে মিলিয়ে নিও।
মৃদুলা: প্লিজ এক্সকিউজ দিওনা। আমি জানি আমি অবশ্যই তোমার থেকে বেটার কাউকে ডিজার্ভ করি। কিন্তু তবু আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। পারিবারিক ভাবে আমার জন্য নিঃসন্দেহে তোমার থেকে বেটার কোনও পাত্রই খুঁজে আনবে আমার জন্য। সে তোমার থেকে সুন্দর হবেনা জানি। তবে তোমার থেকে হায়ার এডুকেটেড, হাইলি এসটাবলিসড, হাই ফ্যামিলির হবে এটুকু বলতে পারি।

তিথি রায় পূজার গল্প “রোদেলা রোদ্দুর”

নির্জন: আমি জানি আর মানিও, তুমি নিঃসন্দেহে আমার থেকে বেটার কাউকে ডিজার্ভ করো৷ এবং তুমি তেমনই পাবে। আর মন থেকে এটা আমি নিজেও চাই। তখন সে এসে তোমাকে আমায় ভুলিয়ে দেবে মিলিয়ে নিও।
মৃদুলা: মৃদুলা এবার চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল আমি স্যরি নির্জন! রাগের মাথায় এতোগুলো কথা শুনিয়ে দিয়েছি তোমাকে। আর তুই এতো কাপুরুষ কেন? নিজের গার্লফ্রেন্ডকে আরেকজনের কাছে দিয়ে দিতে চাস? লজ্জা করেনা??
নির্জন: মৃদুলা রেগে গেলে নির্জনকে তুই করে বলে। তাই নির্জন হেসে বলল অনেক হয়েছে। এখন আর পাগলামি না। ঘুমোও অনেক রাত হয়েছে। আমারও কাল সকালে অফিস আছে।
মৃদুলা: হুম। আমি জানি আমাদের আর কিচ্ছু ঠিক হবেনা। আর আগের দিনগুলো তে আমারা ফিরতে পারবোনা। তবু আমার মন রক্ষা করার জন্য হলেও আজ একবার আমাকে “লাভ ইউ” বলবে প্লিজ??
নির্জন: ঘুমোতে যাও। কাল সকালে তোমার ক্লাস আছে।
মৃদুলা: মন খারাপ করে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বাই বলল।
নির্জন: লাভ ইউ, বাই বলে চুপ করে রইলো!

তিথি রায় পূজার গল্প “কোয়ারেন্টাইন ডায়েরি”

নির্জনের মুখে লাভ ইউ শুনে ওপাশ থেকে আরও জোড়ে জোড়ে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। ঠিক সেই সময় নির্জন ফোন টা কেটে দিলো!

এই মুহূর্তে নির্জনের নিজের চোখেও পানি চিকচিক করছে। সে এই অনুভূতি টা মৃদুলার সামনে তুলে আনতে চায়না। মৃদুলা যখন বলল ওর মন রাখার জন্য হলেও যেনো আজ অন্তত একবার নির্জন ওকে লাভ ইউ বলে! তখন নির্জনের ঠোঁটে একটা হাসির রেখা ফুটে উঠেছিলো। কারণ শুধুমাত্র মৃদুলার মন রাখার জন্য কেন, নির্জন তো সবসময়ই মৃদুলাকেই ভালোবাসে। মুখে প্রকাশ করুক বা না করুক। ভাগ্যিস মৃদুলা তার মনের ভেতর ঢুকতে পারেনা। নইলে বুঝে যেতো, নির্জনের ভালোবাসার সবটা জুড়েই যে শুধুমাত্র মৃদুলা। ওকে কিছুই বুঝতে দেওয়া যাবেনা। তাহলে ওকে শক্ত করা যাবেনা। মৃদুলাকে শিখতে হবে, নির্জন কে ছাড়া ভালো ভাবে বাঁচতে। কেনোনা, এতেই দুজনেরই মঙ্গল!

তিথি রায় পূজার গল্প “সিভিয়ার ক্রাশ”

পেপার’স লাইফ/গল্প/তিথি রায় পূজা