করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষ ঘরে অবস্থান করছে। এর ফলে অন্যান্য খাতের মতো মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের সৌন্দর্যসেবা খাত বা বিউটি ইন্ডাস্ট্রি।
সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, এই খাত থেকে দেশে বার্ষিক আয় ৫০০ কোটি ডলার। দেশের ১৮ শতাংশ নারী এ পেশায় জড়িত। ৩ লাখেরও বেশি বিউটিপার্লারে উদ্যোক্তা ও কর্মী আছে ১০ লাখেরও বেশি। করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই খাতের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারা দেশের কয়েকজন বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী ও বিউটি এক্সপার্টরা জানিয়েছেন তাদের অবস্থার কথা-
রাজধানীর বংশালে বসবাসরত বিউটি এক্সপার্ট ও ওশেন গার্ল বিউটি পার্লারের স্বত্ত্বাধিকারী নাছরিন পারভিন একজন বিধবা নারী, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে পার্লার চালিয়ে সংসার চালান তিনি। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে বিপাকে পড়েছেন নাছরিন পারভিনের মতো অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, আমরা পার্লার মালিকরা ভালো নেই।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আজকে ১৫/১৬ দিন আমাদের কাজ বন্ধ, সামনেও কবে পরিস্থিতি ঠিক হয় জানি না। এই স্বত্বাধিকারী আরো বলেন, ‘ঘর ভাড়া, পার্লার ভাড়া, স্টাফের বেতন, বাজার সব মিলিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর ১০ দিন এমন চললে ডাল-ভাত খাওয়ার উপায় থাকবে না। এমতাবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
আমরা ত্রাণ বা এককালীন সাহায্য চাই না। আমাদের যদি এক বছর মেয়াদী লোনের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমরা সেই লোন দিয়ে এই দুঃসময়ে জীবন পরিচালনা করতাম এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ করে লোন পরিশোধ করব। নাসরিন পারভিন বলেন, আমরা চাই সরকারি খাতে পার্লার জগতের নাম যুক্ত হোক। আমরাও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছি, যা কখনোই সবার সামনে আসে না।
নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও বিউটি পার্লার ওনার্স এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমা মন্ডল বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে সব সুবিধা শুধু তাদের জন্য অব্যাহত রাখলে সবাই সুবিধা পাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- যারা নতুন উদ্যোক্তা, নতুন পার্লার তারা এখনো ট্রেড লাইসেন্সের সুযোগ করে উঠতে পারেনি। তাদের জন্য ব্যবস্থা নিন দয়া করে।
বিউটি এক্সপার্ট ও ওশেন গার্ল বিউটি পার্লারের স্বত্ত্বাধিকারী নাছরিন পারভিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আমরা এখন হতাশার সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছি, আমাদের দিকে একটু হাত বাড়িয়ে দিন। আমরা নারীরাও দেশের উন্নয়নের একটি অংশ হয়ে সারা জীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।
এমতাবস্থায় সরকারি সহায়তা ছাড়া আমাদের ঘুড়ে দাঁড়ানোর কোন উপায় নেই। আমরা নিজেরা চলতেই হিমশিম খাচ্ছি। আমরা চাই সরকারিভাবে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আমাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হোক।
এই খাত ও এর সঙ্গে জড়িতদের রক্ষার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন বলে প্রত্যাশা এই বিউটিশিয়ানের।

