করোনায় উন্নতি হলো যাদের


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

করোনা ভাইরাস এখন ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। এই মহামারীর প্রভাব পরেছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। তবে এরই মধ্যে চিকিৎসা ও জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানির মালিকদের গল্পটা ভিন্ন। করোনা যেন আশীর্বাদ বয়ে এনেছে তাদের ব্যাবসা খাতে।

দেশে দেশে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা, ফ্লাইট স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, কলকারখানা বন্ধ সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই ভয়াবহ মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত ৯ মার্চ বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়ারের নয়জনই সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়েছেন। তবে এরই মধ্যে লাভবান হচ্ছেন এশিয়ার উৎপাদকরা।

মূলত করোনাভাইরাস আতঙ্কে লকডাউনে আছে পুরো ইউরোপ। র‌্যাপিড টেস্ট কিট থেকে শুরু করে ফেস মাস্ক, জীবাণুনাশক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের বাজারে আগুন। ‘প্যানিক বাইংয়ের’ কারণে পশ্চিমের অধিকাংশ সুপারশপগুলোর শেলফ ফাঁকা। এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার উৎপাদকদের পোয়াবারো!

অলমেড মেডিক্যাল প্রোডাক্টস কোম্পানি গজ ব্যান্ডেজের বিভিন্ন সরঞ্জাম বানায়। এরা এখন সার্জিক্যাল মাস্কও বানাচ্ছে। চীনে আজকাল এ কোম্পানির রফতানিযোগ্য (এক্সপোর্ট কোয়ালিটি) পণ্যগুলো চীনজুড়ে মানুষ হন্যে হয়ে খুঁজছে।

কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান কুই জিনহাই অলমেড মেডিক্যাল প্রোডাক্টসের প্রতিষ্ঠাতা। করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল বলা হচ্ছে যেটিকে সেই হুবেই প্রদেশে তিনি কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। চীনের চিকিৎসা ও জৈবপ্রযুক্তির ব্যবসায় যেকজনকে টাইকুন বলা যায় তাদের মধ্যে তিনি এখন অন্যতম। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধসের মধ্যে এই ব্যবসায়ী সম্পদে ১৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। অলমেডের শেয়ারদর এ বছর বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বলতে গেলে রাতারাতি বিলিয়নেয়ার বনে গেছেন কুই জিনহাই। এ তালিকায় এবার যোগ হওয়া চিকিৎসা ও জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানির মালিকদের গল্পটা একই রকম।

এখন অলমেডের মতো কোম্পানির শেয়ারদরে হঠাৎ উল্লম্ফনে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, বৈশ্বিক অর্থনীতির এই অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা মরিয়া হয়ে একটি সুস্থির খাত খুঁজছেন। কারণ তারা করোনাভাইরাস মহামারির শেষটা কী হতে পারে তা অনুমান করতে পারছেন না। এর মধ্যে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সরঞ্জামের চাহিদায় বেশ চাঙাভাব রয়েছে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক নিক্কি লু বলেন, অলমেডের শেয়ারদর এক লাফে বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ হলো, চীনা ক্রেতা এবং বিভিন্ন হাসপাতালে কোম্পানির এক্সপোর্ট কোয়ালিটি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি। লু আরো বলেন, হতে পারে বৈশ্বিক মহামারির এটা কেবল শুরু। ফলে এসব কোম্পানির মালিকদের সম্পদ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে র‌্যাপিড টেস্ট কিট প্রস্তুতকারক ও অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষার কোম্পানি গুয়াংঝু ওয়ান্ডফো বায়োটেক। চলতি বছর এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। এক ধাক্কায় কোম্পানির প্রেসিডেন্ট লি ওয়েনমেই এবং তার স্ত্রী ওয়াং জিহু বিলিয়নেয়ার দম্পতিতে পরিণত হয়েছেন। ওয়াং এ কোম্পানির চেয়ারম্যান।

করোনা পরিস্থিতি এশিয়ার ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর মালিকদের জন্যও ‘আশীর্বাদ’ হয়ে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম ডাক্তার আন কাং। তিনি হুয়ালান বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান এবং সর্বোচ্চ শেয়ারধারী। এ কোম্পানি সোয়াইল ফ্লু বা এইচ১এন১ ভাইরাসের ভ্যাকসিন বানায় এবং তারা কভিড-১৯ নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছে।

করোনায় বাজিমাত করা আরেক কোম্পানি হ্যাংঝু টাইগারমেড কনসালটিং কোম্পানি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার করা বিলিয়নেয়ার ইয়ে শাওপিং েএ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। ওষুধ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বেড়েছে ৮ শতাংশ। এ কোম্পানিকে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ ‘রেমডেসিভার’ এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানোর অনুমতি দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।