রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী



আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বাজারে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস শুরু হতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি থাকলেও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ সবসময়ই থাকে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, রোজা আসার আগেই ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর ও পেঁয়াজের মতো জরুরি পণ্যগুলোর দাম বাড়তে শুরু করে। এবার সেই চিরাচরিত সংকট এড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুত থাকার অর্থ হলো, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা থেকে শুরু করে বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর পুরো চক্রটি সরকারের নজরদারিতে সচল রয়েছে।

প্রতি বছর রমজান মাসকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে তারা রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেয়। বাণিজ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের সেই আশঙ্কা দূর করার একটি পরিষ্কার সরকারি বার্তা। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রমজানকেন্দ্রিক পণ্যগুলোর ছাড়করণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে প্রতি বছরই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে, যার ধারাবাহিকতা এবারও বজায় থাকছে।

রোজায় সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় বেশ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মসুর ডাল, ছোলা, বেসন, চিনি ও বিভিন্ন জাতের খেজুর। দেশে এই মুহূর্তে এসব পণ্যের যে মজুত রয়েছে এবং পাইপলাইনে যা যুক্ত হচ্ছে, তা দিয়ে আসন্ন রমজানের বর্ধিত চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব বলে সরকারি পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য কিনে দেশে আনতে কিছুটা সময় লাগে। সে কারণে রমজানের আগেই আমদানির এই নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

দেশের বাজারে ভোজ্যতেল অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি বা ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণ দেখিয়ে রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাঝেমধ্যেই তেলের দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে থাকে। সম্প্রতি বাজারে এমন একটি গুঞ্জন ছিল যে, মিলমালিকদের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম নতুন করে বাড়ানোর চাপ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের স্পষ্ট ঘোষণা সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, ভোক্তাদের নতুন করে বাড়তি চাপের মুখে না ফেলতে সরকার এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাবে সায় দিচ্ছে না।