কফি শপে বসে বারবার ঘড়ি দেখছে নয়ন। ধীরে ধীরে তার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। আর কত? এভাবে কি বসে থাকা যায়? এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করা যায়? তবুও রাঙার দেখা নেই। সেই কখন আধা ঘণ্টা বলেছিল, এখন এক ঘণ্টার উপরে হয়ে গেছে। এমন সময় মোবাইল ফোনের রিংটোন বেজে উঠল। রাঙার ফোন। রিসিভ করে ফোন কানে দেওয়ার সাথে সাথেই রাঙার কণ্ঠ।
নয়নকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বলল, ‘তুই কি অনেকক্ষণ বসে আছিস?’
এ কেমন কথা? সেই এক ঘণ্টা আগে নয়ন বসে আছে, এ কথা জানার পরও এমন প্রশ্ন করা অবান্তর। কড়া কিছু কথা শুনিয়ে দিতে ইচ্ছে করলেও কিছু বলল না নয়ন। তার এই এক সমস্যা! খুব রাগের মাথায় কিছু বলতে পারে না সে।
তবে নয়ন রেগে গেছে কিনা, এ নিয়ে রাঙার বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই! নিজের মতো করে বলে যেতে লাগল, ‘আর পাঁচটা মিনিট অপেক্ষা কর, আমি চলে এসেছি। এখনই রিকশা থেকে নামবো।’
পাঁচ মিনিট? আধা ঘণ্টা যদি এক ঘণ্টার বেশি হয়, পাঁচ মিনিট কতো মিনিটে শেষ হবে এই হিসেব করতে করতে নয়ন দেখলো, রাঙা কল কেটে দিয়েছে। সে যে কিছু বলে নি, এই ব্যাপারে চিন্তা নেই পর্যন্ত! অদ্ভুত তো মেয়েটা!
নয়নের কাছে রাঙাই সব। একজন বন্ধু, একজন অভিভাবক। অনেকে তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছুই মনে করে, তাতে থোড়াই কেয়ার আছে দুই জনের। কে কি ভাবল, কে কি বলল, এসব নিয়ে ভাবে না ওরা। ওদের কাছে বন্ধুত্বটাই আসল। এমন বন্ধুত্ব, যা অন্য সবকিছুর চেয়ে স্পেশাল।
পাঁচ মিনিট পেরোয় নি, এরই মধ্যে রাঙা এসে ঢুকল কফি শপটাতে। একবার তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলো নয়ন। নয়নের রাগ বুঝতে পারলেও তা উপেক্ষা করে সামনের চেয়ারে বসল রাঙা। একেবারে মুখোমুখি।
‘কখন এসেছিস?’ প্রশ্ন করল রাঙা। এই প্রশ্নটাও অবান্তর।এখানে এসেই রাঙাকে ফোন করেছিল সে। তাই জবাব দিলো না নয়ন। ‘কি হলো?’ আবার বলল রাঙা। ‘চুপ করে যে?’
মুখ তুলে চাইলো নয়ন। চোখ মুখ কঠিন করে বলল, ‘সময়ের জ্ঞান তোর একেবারেই নাই। বয়ফ্রেন্ডকে এভাবে অপেক্ষা করালে তোর কপালে খারাপই আছে!’
‘এই জন্যই তো বয়ফ্রেন্ড নাই।’ খুব সাবলীল ভাবেই উত্তর দিলো রাঙা।
‘জ্বি ম্যাডাম, আমি তো আছি। আর কি লাগে? তাই না?’ কিছুটা রুক্ষভাবেই বলল নয়ন।
নয়নের এমন রুক্ষ কণ্ঠের সাথে পরিচিত নয় রাঙা। ভিতর ভিতর চমকে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়েছে সে। তারপর বলল, ‘তুই তো আমার ভাই। ভাই কি আর বয়ফ্রেন্ড হতে পারে নাকি?’
‘কিন্তু মানুষ তো সেটা ভাবে না। তারা তো কত কিছু মনে করে।’
‘কে কি মনে করল, এ নিয়ে তুই কবে চিন্তা করা শুরু করলি?’ বাম ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল রাঙা।’
‘আমি এসব কখনোই ভাবি না ম্যাডাম।’ জবাব দিলো নয়ন। ‘পৃথিবীর যার যা ইচ্ছা ভাবতে পারে। তুই আর আমি ঠিক থাকলেই হলো।’
‘সেটাই তো!’ হাসি ফুটল রাঙার ঠোঁটে। ‘তুই আমার ভাই আছিস, ভাই-ই থাকবি।’
রাঙার এই হাসি দেখতেই ভালো লাগে নয়নের। কি মিষ্টি লাগে তখন রাঙাকে। কত নিষ্পাপ মনে হয়! উপরে উপরে নিষ্পাপ মনে হলেও ভিতরে ভিতরে রাঙা যে বদের হাড্ডি, এটা তো নয়ন ছাড়া আর কেউ জানে না। এই কথা মনে হতেই ফিক করে হেসে দিলো নয়ন। কেন হাসছে নয়ন, জিজ্ঞেস করে রাঙা। কিছু না, বলে সে সময় পার পেলেও সন্দেহ গেল না রাঙার। বাঁকা চোখে চেয়ে আছে নয়নের দিকে।
দুই দিন হলো, রাঙার কোনো খবর নেই। হঠাৎই যেন উবে গেছে। বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছিল নয়ন, পাওয়া যায় নি। রিং বেজে বেজে একসময় থেমে গেছে, কেউ রিসিভ করে নি। অদ্ভুত লাগছে নয়নের কাছে। এমন কেন করছে রাঙা? তাকে ইগনোর করছে? নয়ন সব সহ্য করতে পারে, কিন্তু রাঙার অবহেলা সহ্য করতে পারে না। নয়নের ভালো থাকার শক্তি যে রাঙা। এই শক্তি হারিয়ে ফেললে ভালো থাকবে কি করে?
রাঙার এভাবে অজানায় ডুব দেওয়ার স্বভাব নতুন কিছু না। প্রায়ই সে হারিয়ে যায়, কারো সাথে যোগাযোগ করে না। কারো ফোন রিসিভ করে না। তখন কোথাও পাওয়া যায় না। এসব নয়ন জানে। এমন অবস্থায় কখনো অস্থির হয়ে না সে। কারণ সে জানে, দুইদিন পর ঠিকই যোগাযোগ করবে রাঙা। কিন্তু এখন কেন অস্থির লাগছে নয়নের? ফেসবুকে একটিভ দেখা যায় রাঙাকে। নতুন বন্ধু সার্কেল নিয়ে বেশ মজায় মেতে আছে সে। তাহলে কেন নয়নের ফোন রিসিভ করছে না, এই চিন্তাই ভাবাচ্ছে নয়নকে। তবে কি নতুন বন্ধুদের পেয়ে নয়নকে ভুলে গেল রাঙা? ও তো এমন মেয়ে না! তাহলে?
এরপর পেরিয়ে গেছে আরও পাঁচ দিন। নয়নের সাথে কথা হয়নি রাঙার। তখন রাত বারোটা। হঠাৎই ফোন বেজে ওঠে নয়নের। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে রাঙার নাম ভেসে উঠেছে মোবাইল স্ক্রিনে। নয়নের ঠোঁটে সূক্ষ্ম এক হাসির রেখা দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল। আনন্দের হাসি নয়, উপহাসের হাসি। নিশ্চয়ই কোনো প্রয়োজন তাই ফোন দিয়েছে রাঙা, ভাবলো নয়ন। রিসিভ করবে না চিন্তা করেও কি ভেবে যেন রিসিভ করল নয়ন। অন্যের মতো সে তো অবহেলা করতে পারেনা, রাঙাকে তো নয়ই!
‘হ্যালো,’ রিসিভ করে বলল নয়ন।
‘কিরে, তোর কোনো খবর নাই! ব্যাপার কি?’ বলল রাঙা।
‘আসলে, নতুন কিছু বন্ধু হয়েছে তো!’ বাঁকা ভাবে জবাব দিলো নয়ন। ‘তাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।’ নয়নের তির্যক কথার পিছনের উপহাস টের পেল রাঙা। কিন্তু কিছু বলল না। ভেতরে ভেতরে মনটা খারাপ হয়ে গেল রাঙার। আবার বলল নয়ন, ‘ফেসবুকে দেখলাম ঘুরতে গিয়েছিলি। কেমন ঘুরলি?’
‘অনেক অনেক মজা করেছি।’ জবাব দিলো রাঙা। একটু থেমে আবার বলল, ‘তোকে খুব মিস করছিলাম।’
‘তাই নাকি?’ কণ্ঠে সেই অবজ্ঞা-উপহাস রেখেই বলল নয়ন। ‘সেই জন্য আমাকে কেউ কিছু জানায় নি।’
‘না, আসলে হয়েছি কি শোন…’ রাঙাকে পুরো কথা শেষ করতে দিলো না নয়ন। মাঝপথে থামিয়ে বলল, ‘রাঙা, রাত অনেক হয়েছে। খুব ঘুম পাচ্ছে। তোর কথা কাল শুনি?’ নয়নের কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যা চমকে দিয়েছে রাঙাকে। বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই দুচোখ দিয়ে এক ফোঁটা অশ্রু বেয়ে পড়ছে টের পেল রাঙা।
নিজের কষ্ট আড়াল করে বলল, ‘ঠিক আছে, ঘুমা। গুড নাইট।’
রাঙাকে গুড নাইট না জানিয়েই ফোন কেটে দিলো নয়ন। অপর প্রান্তে থাকা রাঙা ফোন হাতে নিয়ে চুপ হয়ে বসে রইল। চোখ দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে। হঠাৎ নয়নকে খুব মিস করছে রাঙা। খুব দেখা করতে ইচ্ছা করছে নয়নের সাথে। ও বলেছে যখন ফোন দিবে, ঠিকই ফোন দিবে। নয়ন কখনো কথার খেলাপ করে না। ততক্ষণ অপেক্ষা করবে, সিদ্ধান্ত নিলো রাঙা।
না, নয়ন আর ফোন দেয়নি রাঙাকে। সময় কেটে গেছে, দিনের পর দিন অতিবাহিত হয়েছে। ইচ্ছা থাকার পরও রাঙাকে ফোন দেয়নি। রাঙাও ফোন দেয়নি নয়নকে। ফোন না দিলেও রাঙার খবর ঠিকই রাখে নয়ন। ফেসবুকের কল্যাণে রাঙার গতিবিধি নজর রাখে। মেয়েটা ভালোই আছে দেখেই স্বস্তি। থাক, ভালো থাকুক সবাই। এই চাওয়াতেই এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে নয়নকে। এই কঠিন সময়ে নয়নের পাশে ছিল না কেউ। তাই এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে নিজেকেই।
দেখতে দেখতে তিনটা মাস কেটে গেছে। নয়নের সাথে যোগাযোগ হয়নি রাঙার। আজ রাঙাকে ফোন দিবে, ভাবলো নয়ন। নিজের সেই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানোর জন্য ফোন দিতেই হবে। অনেকদিন পর রাঙার নাম্বারটা বের করে ডায়াল করল। রিং বাজছে, কেউ ধরছে না। রিং বাজতে বাজতে একসময় কেটে গেল। আবার ফোন দিলো, আবার কেটে গেলো। আরেকবার দিবে ভাবল নয়ন। এবারই শেষ। রিং বাজছে। তৃতীয়বারের সময় রিসিভ হলো ফোন।
‘হ্যালো,’ অপরপ্রান্ত থেকে রাঙার কণ্ঠ ভেসে আসলো। ‘এতদিন পর মনে পড়লো আমার কথা? সেই যে বললি পরে ফোন দিবি, আর কোনো খবর নাই।’
রাঙার অভিযোগ মুখ বুজে সহ্য করল নয়ন। বলল, ‘তুই বুঝি কত খোঁজ নিয়েছিস?’
‘আমি তো তোর ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম।’ বলল রাঙা। ‘তুই যে বলেছিলি ফোন দিবি?’
‘হয়েছে, থাম।’ রাঙাকে থামিয়ে বলল নয়ন। ‘তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে। দেখা করতে পারবি?’
‘কি কথা? ফোনেই বল।’
‘ফোনে বললে তো দেখা করতে চাইতাম না।’
‘ঠিক আছে, কবে দেখা করবি?’ দুইজন নিজেদের সুযোগ সুবিধামত দিন ও জায়গা ঠিক করল সেদিনই দেখা করবে দুজন।
উক্ত দিন সময় মতো বের হলো নয়ন। কিছুক্ষণ পরই রাঙার ফোন। ‘কিরে, কই তুই?’ বলল রাঙা। ‘আমি তো চলে এসেছি।’ হাসলো নয়ন। প্রথমবার সময়ের আগেই চলে এসেছে রাঙা। বোধহয় শেষবার।
নয়ন বলল, ‘আমি আসছি, থাক।’
আর দশ মিনিট পর দুইজন মুখোমুখি বসে আছে। অনেক দিন পর দুইজনের দেখা। স্বভাবতই দুইজনের অনেক কথা জমে আছে। তবুও কেউ কিছু বলছে।
‘তুই না কি বলবি বলেছিলি?’ নীরবতা ভাঙল রাঙা।
‘হ্যাঁ, বলব।’ জবাব দিলো নয়ন। ‘কিভাবে বলব বুঝছি না।’ যেন নিজেকেই বলল কথাটা। রাঙা চুপ করে আছে। বিস্ময় নিয়ে দেখছে নয়নকে। রাঙাকেও কিছু বলার জন্য নয়নের এভাবে সংকোচ হবে, জানা ছিল না।
‘রাঙা,’ অবশেষে বলল নয়ন। ‘আমি চলে যাচ্ছি।’
অবাক হয়ে নয়নের দিকে তাকালো রাঙা। কোথাও যাচ্ছে ও? জিজ্ঞেস করল সে কথা।
‘আমি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’ জবাব দিলো নয়ন। ‘ইউএসএ চলে যাবো। আমার ভিসা হয়ে গিয়েছে আগামী সপ্তাহে ফ্লাইট। তোর সাথে এই বোধহয় শেষ দেখা।’
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছে রাঙা। কি বলবে বুঝতে পারছে না। কোনোমতে বলল, ‘হঠাৎ করে চলে যাচ্ছিস যে?’
‘তুই তো জানিস আমার মামা ইউএসএ থাকে। সে আমার জন্য একটি অফার নিয়ে এসেছে। আব্বু-আম্মুও চায় আমি যাই। আর আমারও মনে হচ্ছে এই সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। তাছাড়া…’ এই বলে থামল নয়ন।
‘তাছাড়া কি?’ জিজ্ঞেস করল রাঙা।
‘তাছাড়া জীবনে অনেক সময় অনেকের কথা ভেবেছি। মানুষের কথা চিন্তা করেছি। এবার নিজের কথা ভাবতে চাই।’
‘তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি?’ রাঙার কণ্ঠের প্রবল আকুতি ঠিকই টের পাওয়া যাচ্ছে।
হাসল নয়ন। এতক্ষণ রাঙার পাশে বসেছিল সে। এবার রাঙার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে রাঙার দুই হাত ধরে বলল, ‘দেখ, জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। আমাকে ছাড়াও তোর অনেক বন্ধু আছে। সেখানে তুই ভালো থাকবি বলে আমার বিশ্বাস। আর আমাদের ফ্রেন্ডশিপ তো ভাঙছে না। এখন তো পৃথিবী খুব ছোট। তুই চাইলেই তো যোগাযোগ করতে পারবি।’
‘কিন্তু…’ কিছু বলতে যাচ্ছিলো রাঙা। সে সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো নয়ন। বলল, ‘রাঙা, বাসায় যা। তোকে এই কথা বলতে চেয়েছিলাম। বলা শেষ হয়েছে। এখন বাসায় যা। আমার কিছু কাজ আছে।’
‘আর একটু থাক…’ বলতে চেষ্টা করল রাঙা। কিন্তু হাত দেখিয়ে তাকে থামিয়ে দিলো নয়ন।
‘না,’ বলল সে। ‘বাসায় যা তুই।’ বলেই ঘুরে উল্টো পথে হাঁটা ধরল নয়ন। রাঙাকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবে, কষ্ট হচ্ছে খুব। সেই কষ্ট বাঁধ মানছে না। চোখ বেয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। নিজের বাইরের শক্ত আবরণ অনেক কষ্টে তৈরি করেছে নয়ন। সেই আবরণের ভিতরে থাকা নরম মনটা দেখাতে চায় না বলেই তার এভাবে দ্রুত চলে যাওয়া। বুড়ো আঙুল দিয়ে চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছে সেই যে হাঁটা ধরল, আর ফিরেও তাকাল না।
পিছন ফিরে তাকালে নয়ন দেখত, রাঙা এখনো বসে আছে। অবাক চোখে, বিস্ময় নিয়ে। নিজের প্রিয় বন্ধুটির এভাবে চলে যাওয়া দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসছে। কষ্টে বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠছে বারবার। নয়নের মতো সেই কষ্ট আটকে রাখার চেষ্টা করেনি রাঙা। দুচোখ দিয়ে বেয়ে পড়ছে সেই কষ্ট। সেই চোখের অশ্রুতে ভেসেই হয়ত নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুটি হারিয়ে যাচ্ছে দূরে, বহুদূরে…
পেপারস লাইফ/গল্প/সাকিব আহমেদ
পড়ুন :

