বৈশ্বিক পর্যটন খাত প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনা পর্যটক হ্রাস পাওয়ার ফলে এ বিপর্যয় নেমে আসছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নভেল করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৫টি দেশের ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এ রোগে। এর মধ্যে পর্যটন শিল্পসহ বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিভিন্ন অংশে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।
পর্যটন শিল্পে ভাইরাসটির প্রভাব সম্পর্কে এখনই মন্তব্য করাটা খুব দ্রুত হয়ে যায় উল্লেখ করে ডব্লিউটিটিসির সিইও গ্লোরিয়া গুয়েভারা বলেন, ডব্লিউটিটিসি ও গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের যৌথ গবেষণায় ভাইরাসের কারণে পর্যটন খাতে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হিসাবটি পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে নির্ণয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সার্স কিংবা এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণের সময়কালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হিসাবটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সে সময়ে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনা পর্যটকদের হার কমতে দেখা গেছে। বর্তমানেও কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেছে। সাধারণভাবে চীনা পর্যটকদের মধ্যে অধিক খরচের প্রবণতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডব্লিউটিটিসির সঙ্গে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষণায় আনুমানিক ২ হাজার ২০ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। গত মাসে প্রকাশিত এ গবেষণা প্রতিবেদনে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা ৭ শতাংশ কমে যাওয়ার প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গবেষণা শেষে ক্ষতির পরিমাণ দেখা যায় প্রায় দ্বিগুণ। নভেল করোনাভাইরাস সার্স ভাইরাসের মতো দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। সার্স ভাইরাস ২০০২ সালের নভেম্বরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ২০০৩ সালের জুলাইয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভাইরাসের চলমান সংক্রমণের স্থায়িত্ব সার্স ভাইরাস থেকেও দীর্ঘ হলে পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সামগ্রিকভাবে চীনা নাগরিকদের পাশাপাশি হংকং, ম্যাকাও, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীলতার কারণে পর্যটন খাতটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

