উন্নত প্রযুক্তির যুগে আকাশযান ড্রোনের ব্যবহার চলছে সর্বত্র। খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হয় করা হয় ড্রোনের মাধ্যমে।
তবে, এই প্রথম ড্রোনের মাধ্যমে কিডনি সরবরাহ করা হয়েছে প্রতিস্থাপনের জন্য।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্যোগে ড্রোন দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দান করা কিডনিটি স্থানীয় এক নারীর দেহে স্থাপন করা হয়। ড্রোনটি সুরক্ষিত অবস্থায় কিডনি নিয়ে প্রায় তিন মাইল পথ পাড়ি দেয়।
ম্যারিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোসেফ আর স্ক্যালিয়া বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে স্পর্শকাতর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঝুঁকিমুক্ত ও জীবাণুমুক্ত অবস্থায় সরবরাহে এই ঘটনা একটি মাইলফলক’।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এই চিকিৎসক জানিয়েছেন, একবার এক রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দ্রুত সময়ের মধ্যে আনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা আলাবামা থেকে ম্যারিল্যান্ডে আনতে প্রায় ২৯ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ তা ৯ ঘণ্টার মধ্যে আনা হলে রোগীকে বাঁচানো যেত।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সরবরাহ করা গেলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে। রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হবে।
তৃনা গ্লিসপির (৪৪) দেহে কিডনিটি স্থাপনের পর তিনি বলেন, কিডনির সন্ধান পাওয়ার পরও তা বহনের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে এক সময় এর আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম।
মনুষ্যবিহীন আকাশযান ড্রোনের মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন মাত্রা যোগ হল যা চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও সহজ করে তুলবে।

