গ্রীষ্মকালে যেমন সবকিছুর বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয় তেমনি গাড়িরও যত্ন নিতে হয়। নিয়মিত তেল না নিলে গাড়ির ইঞ্জিন দ্রুত গরম হয়ে যায়। গাড়িতে তেলের মজুদ যদি ঠিক থাকে তাহলে ভেতরকার অন্য যন্ত্রাংশও পরিচ্ছন্ন ও ঠাণ্ডা থাকবে।
গাড়ির ইঞ্জিনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গাড়ির চাকা।
নিয়মিত গাড়ির টায়ারের দেখভাল না করলে গরমের দিনে যেকোনো সময় তা ফেটে যেতে পারে।
গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন তা সবকিছুর ওপরই প্রভাব ফেলে। আলাদাভাবে বলতে গেলে উচ্চতাপমাত্রার প্রভাব পড়ে ব্যবহৃত গাড়ির ওপরও।
গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত রোদ ও তাপ শীতকলীন কুয়াশার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর গাড়ির জন্য, যা কিনা গাড়ির ব্যাটারির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ সময় গাড়ির ইঞ্জিন খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়। তাই গাড়ি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
গাড়ির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় পার্কিংয়ে রাখার ক্ষেত্রে। রোদের সময় রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষন পার্ক করে রাখা গাড়ির জন্য ভালো নয়। এতে অতিরিক্ত গরমে গাড়ির বডির রঙ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে গ্যারেজে অথবা ছায়াযুক্ত স্থানে পার্ক করার।
সূর্যরশ্মি দ্বারা গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক প্রলেপ দিলে ভালো হয়। এক্ষেত্রে সূর্যের অতিরিক্ত তাপে গাড়ির ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমবে। এতে করে গাড়ির সুন্দর রঙটাও অটুট থাকবে।
এছাড়া হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় গাড়ির জানালা সবসময় বন্ধ রাখুন যাতে অতিরিক্ত তাপ ভেতরে প্রবেশ না করে। গরম এড়াতে গাড়ির এসি চালু রাখুন। তবে গরম আরো বাড়ার আগেই দেখে নিন এসি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। নিয়মিত গাড়ির শীতাতপ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তাও দেখে নিন।
গাড়ির টায়ার ভালো রাখার জন্য টায়ার প্রেসার নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরীক্ষা করা উচিত। চাকায় বাতাসের চাপ ঠিক না থাকলে জ্বালানি সাশ্রয় করা কঠিন হবে। গাড়ির ম্যানুয়াল দেখে টায়ার প্রেসার ঠিক করে নিতে হবে।
গাড়ি ভালোভাবে চালানোর ওপরও নির্ভর করে তা কতটা ভালো থাকবে। সহজভাবে গাড়ি চালাতে চাকার ট্রেড বা গভীর খাঁজকাটা নকশা থাকা খুব প্রয়োজন। এমন যদি হয় যে চাকার খাঁজগুলো গভীরতা হারিয়েছে সেক্ষেত্রে নতুন চাকা লাগিয়ে নিতে হবে।
যারা নতুন গাড়ি কিনেছেন তারা অনেকেই হয়তো জানেন না, ট্রেড কমে গেলে ব্রেক করলেও গাড়ি সহজে থামে না বরং চাকা পিছলে যায়। ফলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
টায়ার ঠিক রাখতে গাড়িপ্রতি পাঁচ-আট হাজার কিলোমিটার চলার পর টায়ার রোটেশন দরকার। সামনে ও পেছনের চাকাগুলো এদিক-ওদিক করে বদলে নেওয়াটাকেই বলা হয় টায়ার রোটেশন।
সেক্ষেত্রে সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে গিয়ে টায়ার রোটেশন করিয়ে নিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে, গাড়ির ব্রেকের মধ্যে প্রচুর ময়লা জমে যায়। এসব ময়লা যদি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করা হয় তাহলে ব্রেক ঠিকমতো কাজ করবে না। এসব ময়লা ও ধুলাবালি চাকায়ও লেগে যায়। তাই নিয়মিত ভেজা স্পঞ্জ এবং পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
সবারই সচেতন থাকা জরুরী। তাই খেয়াল রাখুন প্রতিদিনের ব্যবহৃত গাড়িটি। ত্রুটিমুক্ত গাড়ি আর একটু সচেতনতাই আপনাকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করবে।

