জার্মানে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের পাট পাতার চা!


paperslife

বাংলাদেশের সোনালি আঁশ ‘পাট’ জার্মানিতে রপ্তানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি জার্মান বাংলাদেশ থেকে দুই টন পাট পাতা আমদানি করেছে।

খাদ্যদ্রব্য আমদানির ব্যাপারে জার্মান অনেক কড়া নিয়ম মেনে চলে। যারা বাংলাদেশ থেকে পাট পাতা আমদানি করছেন তারা এইসব নিয়মকানুন মেনে নিয়েই আমদানি করছেন।

সম্প্রতি স্টুটগার্ডের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাটমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল জার্মানে পাট পাতা দিয়ে চা তৈরি করা এক স্টার্টআপ ও জার্মান বিনিয়োগকারীদের সাথে দেখা করেছে।

পাট বাংলাদেশের সোনালি আঁশ সেই কথা স্মরণ করে পাটমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পাট থেকে ব্যাপক মুনাফা করেছিল পশ্চিম পাকিস্তান। যদিও সেই মুনাফার তেমন কোন সুফল সে সময় বাঙালিরা পায়নি, তবে পাট পরিচিতি পেয়েছিল সোনালি আঁশ হিসেবে।’

এক সময় যখন পলিথিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল তখন পাটের চাহিদা কমতে থাকে। বর্তমান সময়ে আবার বিশ্বব্যাপী পলিথিনবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠছে।

পলিথিন ব্যবহার ক্ষতিকর তাই পলিথিনের বিপরীতে পাটের সোনালি দিন আবার ফিরে আসবে সেই সম্ভাবনাই ব্যক্ত করেছেন পাটমন্ত্রী।

পাটের তৈরি বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে সবার ধারণা রয়েছে কমবেশি তবে এবার একটু ব্যতিক্রম জিনিস বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার পাট থেকে তৈরি হবে ‘পাট চা’। মূলত পাটের পাতা দিয়েই তৈরি হবে এই বিশেষ পানীয়। যার মধ্যে রয়েছে অনেক ভেষজ গুণাবলী।

জার্মানে এই পাট চা বাজারজাত করার উদ্যোগ নিয়েছে ‘ইন্টারট্রোপ’ নামের একটি স্টার্টআপ। এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন একজন বাংলাদেশি ও দুইজন জার্মানি। যারা পাট নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখছেন।

প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট জানিয়েছেন, ‘তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে জার্মানে ঔষধের দোকানগুলোতে পাটের চা বিক্রি করা। ইতোমধ্যে কিছু দোকানে সেটি বিক্রি শুরুও হয়েছে।চা বিক্রির দোকানগুলোতেও তাঁরা পাটের চা বিক্রির ব্যবস্থা করতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যে পাঁচটি ফ্লেভারে পাটের চা প্রস্তুত করেছে ইন্টারট্রোপ।’

জার্মানে ভেষজ চায়ের অনেক বড় বাজার রয়েছে। একজন জার্মান বছরে গড়ে সাড়ে সাতাশ লিটার কালো এবং সবুজ চা পান করেন।

জার্মান বিশ্বের ৬৩টি দেশ থেকে চা আমদানি করে যার মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। ইন্টারট্রোপ আপাতত জার্মানের এই বিশাল বাজারের ০.৫ শতাংশ দখলে নেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে।

আশা করা যায় ইন্টারট্রোপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ ‘পাট’ আবার নতুন করে সুনাম অর্জন করবে। পাট চায়ের মাধ্যমে আবার বিশ্বব্যাপী নন্দিত হবে পাট।