করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে নেয়া লকডাউন পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাজ্যের কয়েক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি (সিবিআই)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, উপাত্ত অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সহায়তা ঋণ পেয়েছে মোট আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকেরও কম। চলমান পরিস্থিতিতে দেশটির সরকারকে ঋণসহায়তার অপূর্ণতা নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে নজর দিতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নেয়া ঋণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে। সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় ২৮০ কোটি পাউন্ড ঋণ পেয়েছে ১৬ হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান। এক সপ্তাহ আগে প্রদত্ত এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি পাউন্ড। অথচ ফ্রান্সে একই ধরনের ঋণ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার প্রতিষ্ঠানকে বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার কোটি পাউন্ড।
এ বিষয়ে সিবিআইয়ের মহাপরিচালক ক্যারোলিন ফেয়ারবেয়ার্ন বলেন, এখনই সরকারের নভেল করোনাভাইরাস বিজনেস ইন্টারাপশন লোন স্কিমের (সিবিআইএলএস) সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে আগে যেসব কোম্পানি লোন আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের জন্য নতুন করে অনুদানের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কভিড-১৯ সংক্রমণজাত এ সংকটে দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে পড়বে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান।
ফেয়ারবেয়ার্ন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব ক্ষুদ্র কোম্পানির ২৫ হাজার পাউন্ডের কম ঋণ প্রয়োজন, তাদের জন্য আলাদা স্কিম চালু করা দরকার। তবে এক্ষেত্রে পুরো ঋণের অর্থই সরকারিভাবে প্রদেয় হতে হবে। এছাড়া যে স্কিমের আওতায় ৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে, সেখানে সরকারি প্রণোদনা বর্তমান ৮০ শতাংশ থেকে উন্নীত করতে হবে ১০০ শতাংশে।
বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং লবি গ্রুপ ইউকে ফিন্যান্সের প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, সিবিআইএলএসের আওতায় যুক্তরাজ্যে ঋণ দেয়া হয়েছে ১৬ হাজার ৬২৪ প্রতিষ্ঠানকে; যা ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনকারী ৩৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৪০ শতাংশ। এক্ষেত্রে এক সপ্তাহ আগের চেয়ে আবেদন অনুমোদনের হার বেড়েছে ২১ শতাংশ। তবে সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলোয় যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে অর্থ সরবরাহ হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। তবে ইউকে ফিন্যান্স এখন পর্যন্ত কত আবেদন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।

