করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে সিসাসহ বিভিন্ন উপকরণ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের ব্যাটারি উৎপাদন খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দেশের ড্রাইসেল ব্যাটারির দাম প্রায় প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে।
আগে প্রতিটি পুরনো ব্যাটারি (২০০ অ্যাম্পিয়ার) বিক্রি হতো ৩ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকায়। বর্তমানে এসব পুরনো ব্যাটারির দাম বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ২০০ টাকায়। চীন ও বহির্বিশ্বের করোনাভাইরাসের সংকট কমে আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হলে পুরনো ব্যাটারির দাম আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা বা পুরনো ব্যাটারি সংগ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলো।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যাটারি তৈরিতে সিসা ছাড়াও সেপারেটর, অ্যান্টিমনি, রেড অক্সাইড, বেরিয়াম সালফেট, প্লাস্টিক দানার উপকরণ প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা এসব উপকরণের জন্য প্রায় পুরোটাই চীননির্ভর। সিসাসহ বিভিন্ন উপকরণের সংকটে ব্যাটারি উৎপাদনের খরচও বেড়ে গেছে। এসব কারণে বাজারে চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে পারছে না ব্যাটারি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলো।
জানতে চাইলে দেশের অন্যতম ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হ্যামকো করপোরেশনের চট্টগ্রামের ম্যানেজার আহসানুল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যাটারি তৈরির প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। চীন থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজার থেকে স্ক্র্যাপ সিসার ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। তাছাড়া বিকল্প দেশগুলো থেকে সিসা আমদানি সময়সাপেক্ষ এবং দামও বেশি। এসব কারণে দেশে ব্যাটারি ও ব্যাটারি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া কোম্পানিগুলোর উপায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

