প্রতিদিন মানুষ লবণ থেকে যতটুকু পরিমান আয়োডিন গ্রহণ করে তাতে শরীরের আয়োডিনের অভাব পূরণ করলেও এতে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের মতো মারাত্মক সব রোগের ঝুঁকি।
যা বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য হৃদরোগের অন্যতম কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনের ‘ল্যাপ ল্যামবার্ট’ নামের প্রকাশিত একটি বইতে ভারতীয় এক চিকিৎসক কর্নেল (অবঃ) রাজেশ চৌহান তার নতুন বই ‘কুড ইউনিভার্সাল আয়োডাইজেশন অফ সল্ট বি দ্য চিফ কজ অফ হাইপারটেনশন অ্যাজিউমিং এপিডেমিক প্রোপোরশন? তে একথা জানিয়েছেন।
প্রকাশিত ওই বইটি মূলত ভারতের উত্তর প্রদেশের একশ জন প্রবীণ রোগীকে নিয়ে করা একটি গবেষণার ফল।
অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত আয়োডিন যুক্ত লবণ খান। আর তাদের তথ্যের সাথে আরেক দল মানুষের পরিক্ষার তুলনা করা হয়েছে। যারা আয়োডিন যুক্ত নয়, খান ‘পেবল সল্ট।
ওই গবেষক বলেন, যারা আয়োডিন যুক্ত লবণ খান তাদের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যারা ধৌত করা ‘পেবল সল্ট’ খান তাদের তুলনায় বেশি।
এছাড়াও, আয়োডিন বেশি খাওয়ার কারণেও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় তারতম্য ঘটতে পারে, যে কারণে বুকে ব্যথা ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে লবণে ‘আয়োডাইজেশন’য়ের মাধ্যমে আয়োডিন যুক্ত করার জন্য বলা হয়েছিলো। বিশ্বব্যাপি মানুষের মাঝে আয়োডিনের অভার পূরণ করাই ছিল এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। আয়োডিনের অভাবে শিশুদের মাঝে ‘ক্রেটিনিজম’ নামক সমস্যা দেখা দেয়, যার বৈশিষ্ট্য হল অবসাদ, কান্নাকাটি, পেট ফোলা, বুদ্ধি কমে যাওয়া ইত্যাদি।
এই গবেষক জানান, লবণে আয়োডিন থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও গবেষণা করার প্রয়োজন আছে। এছাড়া, আয়োডিন প্রয়োজন হলে তা লবণের মাধ্যমে গ্রহণ না করে ‘সাপ্লিমেন্ট’য়ের মাধ্যমে গ্রহণ করার ভালোমন্দ বিবেচনারও প্রয়োজন আছে। এর পাশাপাশি আয়োডিন মুক্ত লবণও বাজারে নামানোর কথা বলেন ভারতীয় এই গবেষক।

