মহামারী পরিস্থিতি অনেকটা সামলে ওঠায় অনেক দেশেই উঠে গেছে লকডাউন । এর জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ফলে অচিরেই বাড়বে জ্বালানী তেলের দাম
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক কোম্পানি এইচএসবিসি সম্প্রতি চলতি বছর জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
এইচএসবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৩৯ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেলের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৩৪ ডলার ৬০ সেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির আগের পূর্বাভাসে যা ছিল যথাক্রমে ৩৭ ডলার ও ৩২ ডলার ৮০ সেন্ট। অর্থাৎ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৮০ সেন্ট বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির নোটে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের বাকি সময়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা কীভাবে এবং কতটা পুনরুদ্ধার হবে তা এখনো অনিশ্চিত। বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর নির্ভর করছে। তবে ওপেক প্লাস জোটের দৈনিক গড়ে ৯৭ লাখ ব্যারেল উত্তোলন হ্রাস আগামী মাসে বাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত সরবরাহ কমিয়ে আনতে পারে, যা পণ্যটির দামে তুলনামূলক চাঙ্গা ভাব ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। যদিও পুরো বিষয়টা এখনো অনিশ্চিত এবং সামনে পণ্যটির বাজারকে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে।
নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। আগে থেকে ধুঁকতে থাকা পণ্যটির বাজার মহামারীতে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। বৈশ্বিক চাহিদার অপ্রত্যাশিত হারে কমতে শুরু করে। এর সঙ্গে লাগামহীনভাবে কমতে শুরু করে দাম। কমতে কমতে এপ্রিলের শেষদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম শূন্য ডলারের নিচে নেমে যায়।

