করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে সবখানে। আর তাই ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছে মানুষ।
ঘরে বসে অবসর সময় কাটানোর জন্য মানুষ বেছে নিয়েছে ইন্টারনেটকে। ফলে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আর কমেছে মুঠোফোনে কথা বলার হার।
‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর পর থেকে অনলাইনে মিটিংয়ের (ভিডিও কনফারেন্স) হার বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুগল স্কুল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। গুগল থেকে এটা ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়াশোনা করছে বলে জানা গেছে। এসব কারণে বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মোবাইল, পিসি ও ল্যাপটপে নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্স, হইচই চ্যানেল দেখার হার বেড়েছে। বেড়েছে ইউটিউব দেখার পরিমাণও। এছাড়া অন্যান্য সময়ের তুলনায় মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশিক্ষণ থাকছেন। মেইল আদান-প্রদান বাড়ছে। সঙ্গে বেড়েছে অ্যাটাচমেন্ট পাঠানোর হারও।
মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার কারণে ফোন অপারেটরগুলো তাদের প্যাকেজ নতুন করে সাজিয়েছে। কোনও কোনও অপারেটর আগের দামে বেশি ডাটা অফার করছে । কোনও অপারেটর তাদের ডাটার দাম কমিয়েছে।
জানা গেছে, ডাটার পরিমাণ বৃদ্ধি, দাম কমানো ইত্যাদিতে এগিয়ে আছে রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক। তবে মোবাইল অপারেটররা জানিয়েছে, তাদের ডাটার (ইন্টারনেট) ব্যবহার বাড়লেও কমেছে ভয়েস কলের পরিমাণ।
মোবাইল ইন্টারনেটের পরিমাণ বাড়লেও বিপদে পড়েছে করপোরেট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।বেশি সব অফিস (গার্মেন্ট, বায়িং হাউজ, ব্রোকারেজ হাউজ, ট্রাভেল এজেন্ট ইত্যাদি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় করপোরেট খাতে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার প্রায় শূন্যে নেমে গেছে।
বাসাবাড়িতে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়লেও আইএসপিগুলো পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যান্ডউইথ আপগ্রেড করছে না। ফলে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়েনি। বরং মোট ব্যবহার কমে যেতে পারে।

