করোনাভাইরাসের কারণে আমদানিকারকরা পণ্য খালাস না করায় চট্টগ্রাম বন্দর অচল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে আমদানিকারকরা পণ্য খালাস করছেন না । পণ্যবোঝাই কন্টেইনারে চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। ফলে কন্টেইনারের ধারণক্ষমতা প্রায় ছুঁয়ে যাওয়ায় জাহাজ থেকেও নামছে না পণ্য।
এ বিষয়ে বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর প্রভাবে প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি আয়ের যোগানদাতা তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় এবং কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা পণ্যের তেমন চাহিদা নেই। উপরন্তু মহামারীর কারণে আমদানি পণ্য বন্দর থেকে নেওয়ার জন্য পরিবহনেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং ব্যাংক খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বুধবার বন্দর চত্বরে কন্টেইনার ছিল ৪৮ হাজার ১৭৫টিইইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার এক একক), যেখানে ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউএস। তার আগের দিন বন্দর চত্বরে কন্টেইনার ছিল ৪৭ হাজার ৪১৩টিইইউএস। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৯০৫টি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে।
জেটিতে থাকা জাহাজগুলো থেকে কন্টেইনার নামিয়ে রাখার মত তেমন খালি জায়গা নেই বন্দর চত্বরে। ফলে অপেক্ষমাণ কন্টেইনারবাহী জাহাজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বুধবার বন্দরে জেটিতে কন্টেইনারবাহী জাহাজ ছিল নয়টি; বর্হিনোঙরে কন্টেইনার নিয়ে অপেক্ষমাণ ছিল ৩১টি।
এমন পরিস্থিতিতে বন্দরকে সচল রাখতে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

