যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান (JPMorgan) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সর্বকালের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, সামনের বছরগুলোতে প্রতি আউন্স খাঁটি সোনার মূল্য ৬ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে এবং সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে।
গত জুনে প্রকাশিত জেপি মরগ্যানের বাজার বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই দীর্ঘমেয়াদি হিসাব তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষের দিকেই প্রতি আউন্স ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৬ হাজার ডলার স্পর্শ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরের এক বছরে এই দাম আরও তিনশো ডলার বেড়ে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির শঙ্কা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা মজুত করার ধারাবাহিক প্রবণতা এই তুমুল মূল্যবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম মূলত নির্ভর করে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার অবস্থানের ওপর। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা আগামী কয়েক বছর ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার পর থেকে চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যাপকভাবে সোনা মজুত করছে।
বিপুল প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার বা বন্ডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে মূলধন সরিয়ে সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যদি আগামীতে সুদের হার কমায়, তবে ডলারের মান দুর্বল হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই সোনার বাজার আরও চাঙ্গা হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক এসব সমীকরণের ফলেই ২০২৭ সাল নাগাদ আউন্সপ্রতি মূল্য ৬ হাজার ৩০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকদের দৃঢ় বিশ্বাস।

