বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন খবরে চাল ও পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। কয়েকদিনের ব্যবধানে এখানে মোটা ও চিকন দুই ধরনের চালের দাম বেড়েছে। আর পাইকারিতে দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা।
গতকাল হিলির পাইকারি বাজার ঘুরে, গুটি স্বর্ণা জাতের মোটা চাল কেজিপ্রতি ৩৪ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক সপ্তাহের কম সময়ের আগেও এ জাতের চাল কেজিপ্রতি ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। স্বর্ণা জাতের চালের কেজি ৩৪ থেকে বেড়ে ৩৬ টাকায় উঠেছে।
এদিকে মার্চের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জের ধরে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছিল। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশটি পেঁয়াজসহ সব পণ্যের রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে, এমন খবরে স্থানীয় বাজারে দুদিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে।
হিলির পাইকারি বাজার ঘুরে, ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দুদিন আগেও এ পেঁয়াজ মানভেদে সর্বোচ্চ ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ কমতির মুখে থাকা পেঁয়াজের দাম দুদিনেই কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে।
স্থানীয় আমদানিকাররা বলেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়ায় ১৫ মার্চ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্যটির আমদানি শুরু হয়। ওইদিন থেকেই পেঁয়াজের কেজি ২৫-৩০ টাকায় নেমে আসে। তবে গতকাল খবর ছড়িয়ে পড়ে, করোনাভাইরাসের কারণে ভারত পেঁয়াজসহ সব ধরনের পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। এমন খবরের জের ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যায়। হিলিতে বেড়ে যায় পেঁয়াজের বেচাকেনা। ফলে দুদিনেই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে।
স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি ফের বন্ধ হবে কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হবে। তবে এর পরের পরিস্থিতি আমরা এখনো জানি না। ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দেশটির রফতানিকারকরাও আমাদের কিছু জানাননি।

