এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন। এ নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ এগিয়ে আছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, টিকা আবিষ্কার করতে পারলেই দেশ দু’টি অর্থনৈতিক তো বটেই কূটনৈতিকভাবেও তার ফায়দা আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন- দেশ দু’টি জানে যে দেশই করোনাভাইরাসের টিকা প্রথমে আবিষ্কার করতে পারবে, সে দেশই বিশ্বে ছড়ি ঘোরাবে।
তবে চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিজ্ঞানিরা মনে করছেন, এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে চীন।
কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন, চীনই প্রথম করোনাভাইরাস জানতে শুরু করেছে। সে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সবার আগে এবং তারা এটি নিয়ন্ত্রণেও নিয়ে এসেছে।
পেন্টাগন ও সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ম্যাট ক্রয়েনিগ বলেছেন, চীন কোনো ধরনের সহায়তা দিলেও বিভিন্ন সময় তার পেছনে শর্ত থাকে। সে কারণে তারা টিকা আবিষ্কার করলেও তাদের প্রভাব বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার চেষ্টা চালাতে পারে।
তিনি আরো বলেন, চীন নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার জন্য মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহারের জোর চেষ্টা চালাতে পারে। করোনার কারণে তারা যে ধরনের বিপাকে পড়েছে, তা উত্তোরণের জন্য সহায়ক হতে পারে এই ভাইরাসেরই টিকা।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা সে দেশের চিকিৎসক থেকে শুরু করে গবেষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাদের গবেষণার তথ্য চুরি করার জন্য কম্পিউটার হ্যাক করার চেষ্টা করতে পারে চীনের হ্যাকাররা। সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটগুলো ইরান ও রাশিয়ার হ্যাকাররা হ্যাক করার চেষ্টা করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে দেশ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রথম আবিষ্কার করবে, তারা এটি চড়া দামে বিক্রি করবে।
উদাহরণ হিসেবে আমেরিকান মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা, রোজ ম্যাককিনির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, টিকা আবিষ্কার করতে পারলে অন্য দেশ থেকে আর অর্থ খরচ করে সেসব আমদানি করতে হবে না চীনকে। এছাড়া তারা বৈশ্বিক সংস্থাগুলির কাছে তারা বিপুল সংখ্যক টিকা বিক্রি করতে পারবে।

