অফিসেও যেভাবে থাকবেন করোনা ঝুঁকিমুক্ত


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো খোলা আছে। ফলে এখানে কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছেই। আক্রান্ত সহকর্মী থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।

অফিসে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে অসচেতনতাবশত অসুস্থ কর্মীর হাঁচি বা কাশির নিয়ম না মানা। এমন পুরো অফিসের কর্মীরাই ঝুঁকিতে পড়বেন। তাছাড়া অফিসে সাধারণত খুব বেশি দূরত্ব বজায় রেখে বসা হয় না। না চাইতেও ছোটখাটো একটা জমায়েত হয়ে যায় মাঝেমধ্যেই। দরজার হাতল, পানির ফিল্টার, কফি মেশিনে সবার হাতের স্পর্শ পড়ে। এ কারণে এসব বস্তু থেকেও দ্রুত ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস। আবার অফিসে যাওয়া আসার পথেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অফিস তাই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রধান সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।

নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ ইউএনএমসি কলেজের এপিডেমিওলজিস্ট বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আলী খান বলেন, বড় ঝুঁকি অফিস নয় বরং অসুস্থ কর্মী।

নর্থ ক্যারোলাইনা স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকসের ইনিস্টিটিশনাল রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক ইনিশিয়েটিভসের পরিচালক ক্রিসি হিউট অফিসগুলোর ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার জীবনের বৈচিত্র্য এবং প্রাচুর্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ দিনের অনেকটা সময় অফিসে অতিবাহিত করে। ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় বলে এখানে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।

এদিকে সার্স এবং মার্সের মতো করোনাভাইরাসের বিষয়ে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এরা ধাতু, কাচ এবং প্লাস্টিকের পৃষ্ঠে নয় দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি নিম্ন তাপমাত্রায় কিছু ভাইরাস ২৮ দিন পর্যন্ত অক্ষত থাকে। বাতাসে কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসা ক্ষু্দ্র ফোঁটার (ড্রপলেট) মধ্যে এ ভাইরাস তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁচে। ছোট আকারের কোণা যেগুলো ১-৫ মাইক্রোমিটার আকারের হয় (মানুষের চুলের প্রায় ৩০ ভাগের এক ভাগ) সেগুলো স্থির বায়ুতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ভেসে অক্ষত থাকতে পারে। কার্ডবোর্ডের (শক্ত কাগজের বোর্ড) গায়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অক্ষত থাকতে পারে। আর প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলের গায়ে থাকতে পারে ২-৩ দিন পর্যন্ত।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ কলেজের গবেষক জোনাথন সেক্সটন জানান, রেফ্রিজারেটর, ড্রয়ারের হাতল, নলের হাতল, দরজার হাতল এবং কফির পাত্রের মতো জায়গাগুলোতে জীবাণুর সর্বাধিক ঘনত্ব রয়েছে। এই সমস্ত স্থানে করোনভাইরাসও বেশ সময় পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এজন্য অফিস থেকে করোনাভাইরাস বিস্তার অনেকাংশে সহজ।

যদিও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বর্তমানে প্রায় সব অফিসেই ঢোকার আগে কর্মীদের জীবাণুমুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন কর্মীকে ঘর থেকে অফিসের কাজ করার পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস ২ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে। আর শরীরে লক্ষণ প্রকাশের প্রথম তিন থেকে চার দিন আক্রান্ত ব্যক্তি রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। সুতরাং এসময়টিতে কোনো ধরনের অবহেলা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

সবচেয়ে ভালো হয়, বিস্তার রোধে যথাযোগ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া। সেটি ব্যক্তিগত ভাবে নেয়াটাই বেশি কার্যকর। বারবার হাত ধুতে হবে। মুখে মাস্ক পরতে হবে যাতে কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসা ক্ষু্দ্র ফোঁটার (ড্রপলেট) মাধ্যমে এই ভাইরাস না ছড়ায়।

এছাড়া নিজের ডেস্ক ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র জীবাণুনাশক দিয়ে বারবার পরিষ্কার করা, খুব জরুরি না হলে মিটিং এড়িয়ে চলা, কাজ করতে করতে নাকে মুখে চোখে হাত না দেয়া, আলাদা পানির বোতল ব্যবহার করা, ব্যবহৃত সেলফোন ও ল্যান্ডফোনটি দৈনিক জীবাণুমুক্ত করা, যতোটা সম্ভব কাগজের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কাজ সারা, এই সময় অফিসে অবশ্যই চা-কফি পানে ওয়ানটাইম কাপ ব্যবহার করা, চামচ দিয়ে খাবার খাওয়া, সব সময় সঙ্গে টিস্যু রাখা, মুখোমুখি বসে কথা না বলা এবং সর্বোপরী অসুস্থ বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে অফিসকে জানানো- অফিসে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার এড়াতে এবং সহকর্মীদের  সুরক্ষিত রাখতে এসব সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।