জীবনে কঠিন মুহূর্ত আসবে তাই বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গেলে চলবে, একেবারেই না। তারপরও আমরা ভেঙে পড়ি।
অর্থনৈতিক দুর্দশা, জটিল কোনো রোগের আক্রমণ, প্রিয়জনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ইত্যাদি কঠিন সময়গুলোতে অধিকাংশ সময়ই আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। আর ভেঙে পড়াটা অস্বাভাবিকও নয়।
জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে নিজের প্রতি বিশ্বাস কমে যায়, উদ্বেগ তৈরি হয়। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে বারবার নেতিবাচক চিন্তাই মাথায় আসে।
আর এই নেতিবাচক চিন্তাগুলো আপনার ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে মনকে শক্ত রাখতে শিখলে এসব অনুভূতি, আচরণ, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট সাইকোলজি টুডে নিজেকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখতে তিনটি কৌশল জানিয়েছে-
বাস্তবতাকে মেনে নিন:
বাস্তবতাক মেনে নিয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা যায়। মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকার একটি অন্যতম সূত্র হলো বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া।
ধরুন, আপনি ট্রাফিক জ্যামে আটকে রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরেই আপনার খুব জরুরি একটি মিটিং। খুব বিরক্ত লাগছে এই সময়। রাগ হচ্ছে, উদ্বেগ হচ্ছে এবং হতাশও লাগছে। এমন সময় আপনি কী করবেন?
একটু আশপাশে তাকান। দেখবেন, আরো কিছু গাড়িও একইভাবে আটকে রয়েছে। সেসব গাড়িতে যাঁরা রয়েছে তাঁরাও কিন্তু আপনার মতোই অবস্থাতে পড়েছেন।
এভাবে ভাবলে দেখবেন নিজেকে একটু শান্ত করতে পারছেন, নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। আসলে যখন অবস্থা পরিবর্তন করা যায় না, তখন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াটাই আপনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করবে।
নেতিবাচক চিন্তা নিয়ন্ত্রণ:
নেতিবাচক মনোভাব আপনাকে একবারে শেষ করে দিবে। আপনার মনই আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু, আবার বড় শত্রুও। কথায় বলে, ‘বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়’। কোনো কিছু নিয়ে বারবার নেতিবাচক চিন্তা করা মানসিক শক্তিকে নষ্ট করে দেয়।
ধরুন, যদি বারবার চিন্তা করতে থাকেন, ‘আমি কাজটি পারব না’ বা ‘আমাকে দিয়ে এই কাজ হবে না’। তাহলে আসলে যতটুকু পারতেন সেটিও হবে না। তাই নেতিবাচক চিন্তা বা যেই চিন্তাগুলো করলে মন খারাপ হয়ে যায়, সেগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।
নেতিবাচক চিন্তা দূর করতে মনে মনে ইতিবাচক অটোসাজেশন দিতে পারেন। নিজেকে বলতে পারেন, ‘ আমি পারব’, ‘আমি করব’, ‘আমার সব সমস্যার সমাধান হবে’।
শান্ত থাকা:
মানসিকভাবে নিজেকে ঠিক রাখতে সবচেয়ে প্রয়োজন হল কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্ত থাকার অভ্যাস। এটি খুব বড় একটি গুণ। এই গুণটি আপনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করবে। যদিও বিষয়টি অতটা সহজ নয়। তবে নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত থাকতে পারলে দেখবেন অনেক কঠিন বিষয়ও আপনার অনুকূলে চলে এসেছে।
নিজেকে ভালো রাখতে, নিজের উন্নতি দেখতে, সবকিছুতে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে মানসিকভাবে ঠিক থাকতে হবে। নতুবা কোন কিছুই সম্ভব না। তাই যত দুশ্চিন্তা রয়েছে সব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বাঁচতে শিখুন।

