গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস নামের এক প্রাণঘাতী ভাইরাস। ইতিমধ্যেভাইরাসটি বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
মহামারি আকার ধারণ করা এ ভাইরাস প্রতিনিয়ত জীনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রথম শুধু জ্বর-সর্দি-কাশি এই রোগের লক্ষণ হিসেবে মনে করা হলেও এখন দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন উপসর্গ।
ডায়রিয়া, ঘ্রাণশক্তি চলে যাওয়া, খাবরের স্বাদ বুঝতে না পারা, চোখ গোলাপী হয়ে যাওয়া এরকম নানা নতুন নতুন উপসর্গ জেগে উঠছে করোনা সংক্রমণে। শ্বাসকষ্ট না হলেও সর্দি, কাশি, জ্বরের সঙ্গে এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
হজম শক্তি কমে যাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া নতুন উপসর্গ হিসেবে যুক্ত হয়েছে স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি হারানো। এসব উপসর্গ নিয়ে একাধিক করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
করোনা রোগীদের আরও এক নতুন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সর্দি, কাশি, জ্বরের সঙ্গে স্নায়ুবিক সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, কিছু রোগীদের মধ্যে স্নায়ুবিক সমস্যাও করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। কিছু করোনা রোগীর শরীরে খিঁচুনি দেখা দিয়েছে।
কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আবার মস্তিষ্কেরও অস্বাভাবিক ক্ষতি করেছে করোনাভাইরাস। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত নতুন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
করোনা সংক্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হল চোখ গোলাপী হয়ে যাওয়া। তবে এই উপসর্গ খুব কম রোগীর শরীরেই দেখা দিয়েছে। এক থেকে তিন শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগীর চোখ গোলাপী হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি এই ভাইরাস সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে ইউরোপের দেশ ইতালি ও স্পেনকে। দেশ দুটিতে যথাক্রমে সাড়ে ১৪ হাজার ও ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
সূত্র: দ্য সান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে, বিজিআর

